রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে ক্রমশ বাড়ছে উত্তাপ। একদিন আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে আগরতলার রাজপথে মিছিল করেছিল বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির যৌথ মঞ্চ ইন্ডিয়া ব্লক। এবার সেই কর্মসূচির পাল্টা জবাব দিতে রাস্তায় নামল শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার রাজধানী আগরতলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করে বিজেপি। এদিন রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলের সূচনা হয়। বিজেপির দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলি পরিক্রমা করে মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন শাসকদলের নেতৃত্ব। এদিনের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার-সহ দলের প্রথম সারির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মিছিলটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিরোধী ইন্ডিয়া মঞ্চের মিছিলের ঠিক পরদিনই বিজেপির এই পাল্টা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরপর দু’দিনের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বিজেপির এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকার সমালোচনা করেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং বিরোধীদের বিভিন্ন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। বিরোধীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে শাসকদলের নেতারা কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, এই মিছিলকে ঘিরে পুর নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, আগরতলা পুর নিগম-সহ রাজ্যের ২১টি পুর ও নগর স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে। আগামী ২৭ নভেম্বর ভোটগ্রহণ এবং ২ ডিসেম্বর ভোট গণনার দিন নির্ধারিত হয়েছে। ফলে নির্বাচনের আগে রাজধানীর রাজপথে বিজেপির এই বৃহৎ কর্মসূচিকে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। পুর নির্বাচনের আগে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠনকে সক্রিয় করা, কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামানো এবং জনসংযোগ বাড়ানো—সব দিক থেকেই আগামী কয়েক সপ্তাহ রাজনৈতিক দলগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিজেপির এই কর্মসূচির পর বিরোধী শিবির কীভাবে নিজেদের নির্বাচনী কৌশল সাজায়, সেদিকেও নজর থাকবে। সব মিলিয়ে, পুর নির্বাচনের আগে আগরতলার রাজপথ কার্যত রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিরোধীদের যৌথ আন্দোলন, অন্যদিকে শাসকদলের পাল্টা মিছিল—এই দুই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার রাজনৈতিক লড়াই যে আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, রাজপথের এই শক্তি প্রদর্শন ভোটের ময়দানে দলগুলির প্রচার ও সাংগঠনিক তৎপরতায় কতটা প্রতিফলিত হয়।



