টেট ওয়ান উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ নিয়ে জট অব্যাহত। আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত টেট ওয়ান উত্তীর্ণদের নিয়োগের বিষয়ে সরকার কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় এই মুহূর্তে সরকার কোনও মন্তব্য করতে চায় না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, গতকাল আগরতলার শিক্ষা ভবনে ত্রিপুরা শিক্ষক নিয়োগ পর্ষদ বা টিআরবিটির কার্যালয়ের সামনে নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান টেট ওয়ান উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করছে। এই নীতি বন্ধ করে সমস্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীকে একসঙ্গে নিয়োগের দাবিতে সরব হন বেকার যুবক-যুবতীরা। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সচিবালয়ে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, টেট ওয়ানের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগের বিষয়ে এগোনো সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, টেট টু-এর মাধ্যমে স্নাতক শিক্ষক বা গ্র্যাজুয়েট টিচার (GT) নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মোট ১,০২০টি শূন্য পদের বিপরীতে মেধার ভিত্তিতে ৭৬৬ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছে টিআরবিটি। বুধবার হাঁপানিয়ার আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে নির্বাচিত প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে। তবে কয়েকটি সংরক্ষিত বিভাগে পর্যাপ্ত যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় সমস্ত শূন্য পদে নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তপশিলি জনজাতি বিভাগের ২৩৩টি, প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য ২৩টি এবং বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের জন্য ২০টি পদ এখনও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ১,৫০২ জন প্রার্থীর কাছে টেট টু শংসাপত্র রয়েছে। তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। স্নাতক মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২৩০টি পদে সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। এদিকে, মাধ্যমিক স্তরে স্নাতক শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত ৭০০টি শিক্ষক পদ সৃষ্টি করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই পদগুলির বিপরীতে টিআরবিটি ৬৮৬ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছে। বুধবার তাঁদেরও নিয়োগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে একদিকে টেট ওয়ান উত্তীর্ণদের নিয়োগ আইনি জটের কারণে অনিশ্চিত থাকলেও, অন্যদিকে GT ও STGT পদে নির্বাচিত মোট ১,৪৫২ জন প্রার্থীর হাতে বুধবার নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার।



