জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে স্বচ্ছতার বার্তা নিয়ে পথে নামল আগরতলা পুর নিগমের পূর্ব জোন। শুক্রবার সকালে স্বচ্ছ ভারত কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে পূর্ব জোনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় বিশেষ স্বচ্ছতা অভিযান। নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং শহরকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তা দেওয়াই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। সকাল ৭টা নাগাদ বনমালীপুর বিধানসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামার পুকুরপাড় এলাকার কালী মন্দির সংলগ্ন স্থান থেকে শুরু হয় স্বচ্ছতা অভিযান। সেখান থেকে আশ্রম চৌমুহনীতে অবস্থিত আগরতলা পুর নিগমের পূর্ব জোন কার্যালয় পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পূর্ব জোনের চেয়ারম্যান সুখময় সাহার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন জোনের অধিকর্তা স্বপ্নঞ্জিৎ সরকার। পাশাপাশি পুর নিগমের পূর্ব জোনে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী এবং এলাকার সাধারণ নাগরিকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই অভিযানে সামিল হন।
অভিযানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর আগরতলা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে কর্মসূচি থেকে বার্তা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা বলেন, স্বচ্ছতা কোনও নির্দিষ্ট দিন বা একটি দিনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসকে যুক্ত করতে হবে। নিজের বাড়ি, রাস্তা, পাড়া ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রশাসন বা পুর নিগমের উদ্যোগে একটি শহরকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর নগরী গড়ে তোলা সম্ভব। গান্ধী জয়ন্তীর মতো বিশেষ দিনে স্বচ্ছতা অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সেই সচেতনতার বার্তাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আগরতলা শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে আগামী দিনেও নাগরিকদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।



