এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট এবং দীর্ঘদিন ধরে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে সরব হলেন আগরতলা বড়দোয়ালী এনবিআরসি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, প্রায় প্রতিরাতেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করেন ওই যুবক। শুধু তাই নয়, নিজের জন্মদাত্রী মায়ের উপরও নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার এলাকার সচেতন নাগরিকরা একত্রিত হয়ে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে গণডেপুটেশন প্রদান করেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম তন্ময় রায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নেশায় আসক্ত হয়ে প্রায় প্রতিরাতেই তিনি নিজের বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করেন। এর জেরে শুধু তাঁর পরিবারের সদস্যরাই নয়, আশপাশের বাসিন্দারাও সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় এলাকায় অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য এর আগে এলাকার ক্লাবের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান বাসিন্দারা। ক্লাবের একটি প্রতিনিধি দল একাধিকবার তন্ময় রায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে এই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আমতলী থানার পুলিশের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু অভিযোগের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের কাছে গণডেপুটেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। মঙ্গলবার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এবং দলমত ভুলে এলাকার বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত যুবকের কথিত অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানান। তাঁদের মূল দাবি, এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। স্থানীয়দের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে যেন গোটা এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের এই গণডেপুটেশনের পর পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।



