যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকারি উদ্যোগে বেকার যুবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ইলেকট্রিক অটো। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট রুটে চলাচলের জন্য দেওয়া হয় রোড পারমিটও। কিন্তু অভিযোগ, সরকারি নির্দেশকে উপেক্ষা করে একাংশ ই-অটো চালক নির্ধারিত রুটের বাইরে গিয়ে আগরতলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ছেন। এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে বাড়ছে যানজট। পাশাপাশি রাস্তার পাশে যত্রতত্র ই-অটো দাঁড় করিয়ে রাখার কারণেও সমস্যায় পড়ছেন পথচারী থেকে শুরু করে অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। এই পরিস্থিতিতে আগরতলা শহরে বাইরের এলাকার ই-অটোর প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল ট্রাফিক দপ্তর। মঙ্গলবার আগরতলার উত্তর গেট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ট্রাফিক ডিএসপি প্রণব দাসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচলকারী ই-অটোগুলির বিরুদ্ধে নজরদারি চালানো হয়।
ট্রাফিক দপ্তরের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নির্দিষ্ট রুটের বাইরে থেকে আসা ই-অটো দাঁড়িয়ে থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী ওঠানো-নামানোর পাশাপাশি রাস্তার পাশে দীর্ঘক্ষণ অটো দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে তৈরি হচ্ছে যানজট। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এদিনের অভিযান প্রসঙ্গে ট্রাফিক ডিএসপি প্রণব দাস জানান, আগরতলা শহরের নির্দিষ্ট রোড পারমিটের বাইরে থেকে আসা ই-অটোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। বাইরের এলাকার ই-অটোগুলিকে ইচ্ছেমতো শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে বাইরের এলাকার ই-অটো শহরে প্রবেশ করতে পারবে বলেও জানান তিনি। মোহনপুর, আমতলী কিংবা অন্যান্য দিক থেকে আসা ই-অটোগুলিকে নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত আসার অনুমতি থাকবে। কিন্তু শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে সামনে বোর্ড লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব ই-অটোর নির্দিষ্ট রোড পারমিট রয়েছে, তাদের সেই অনুমোদিত রুট মেনেই চলাচল করতে হবে। রোড পারমিটের শর্ত ভেঙে অন্য রুটে চলাচল করলে সংশ্লিষ্ট অটোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছে ট্রাফিক দপ্তর।
শুধু ই-অটো নয়, শহরের বিভিন্ন রাস্তায় যেখানে-সেখানে বাইক, চারচাকা কিংবা অন্যান্য যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার বিরুদ্ধেও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক আধিকারিকরা। কারণ, রাস্তার পাশে বেআইনিভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণেও প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজট তৈরি হচ্ছে। ট্রাফিক দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগরতলা শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ অভিযান। আগামী দিনেও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হবে। সরকারি নিয়ম ও ট্রাফিক আইন অমান্য করে যে সমস্ত যানবাহন চলাচল করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দিয়েছে ট্রাফিক দপ্তর।



