ত্রিপুরায় স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বিল্ডিং এ ইউনিকর্ন ইন ত্রিপুরা’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা। আর এই কর্মশালাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো ‘টি-রাইস’ পোর্টাল। রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর এবং হায়দরাবাদের স্টার্টআপ ও ইনোভেশন প্ল্যাটফর্ম টি-হাব-এর সহযোগিতায় আয়োজিত হয় এই কর্মশালা। ত্রিপুরার তরুণ উদ্যোক্তাদের উচ্চ প্রবৃদ্ধিসম্পন্ন এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। এছাড়াও ছিলেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী, বিভিন্ন স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষাক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন স্টার্টআপ নীতি চালু হওয়ার পর ইতিমধ্যেই ১৮৫টির বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১৪০টি রেজিস্ট্রেশন অনুমোদিত হয়েছে এবং ৭০টি স্টার্টআপ স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা হিসেবে ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন চালু হওয়া ‘টি-রাইস’ পোর্টালকে ঘিরে রয়েছে আরও বড় পরিকল্পনা। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্টার্টআপ, উদ্যোক্তা, ইনকিউবেটর, মেন্টর, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি দপ্তরগুলিকে একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পোর্টালের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তারা ২০টিরও বেশি মেন্টর এবং ১০টিরও বেশি বিনিয়োগকারী, কর্পোরেট সংস্থা, ইনকিউবেটর ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। ফলে ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরি থেকে শুরু করে বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং বাজার সম্প্রসারণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার। কর্মশালায় টি-হাবের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে উদ্ভাবন ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বা অর্থ সংগ্রহ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সরকারের লক্ষ্য, শুধুমাত্র নতুন স্টার্টআপ তৈরি করা নয়, বরং ত্রিপুরায় এমন একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে স্থানীয় তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ নিতে পারে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ সফল হলে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ত্রিপুরা ধীরে ধীরে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টার্টআপ গন্তব্য হিসেবে উঠে আসবে।



