আগরতলার ঐতিহাসিক মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত প্রাচীন মন্দির নতুন রূপে ফিরে পেল তার ঐতিহ্য। সরকারি উদ্যোগে সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের পর নবনির্মিত শ্রীশ্রী নৃসিংহ দেবতা ও শ্রীশ্রী রাম-জানকি মন্দিরে রাজস্থান থেকে আনা বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হলো মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার উপস্থিতিতে। ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ।
আগরতলার মোটরস্ট্যান্ড এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই এলাকার বহু বছরের পুরনো শ্রীশ্রী নৃসিংহ দেবতা ও শ্রীশ্রী রাম-জানকি মন্দির দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ধর্মপ্রাণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এবং স্থানীয়দের আবেদনের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মন্দিরটির সম্পূর্ণ সংস্কার, আধুনিকীকরণ ও সৌন্দর্যায়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বৈদিক রীতি-নীতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবনির্মিত মন্দিরে রাজস্থান থেকে আনা শ্রীশ্রী নৃসিংহ দেবতা এবং শ্রীশ্রী রাম-জানকির বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, যজ্ঞ, পূজা-অর্চনা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে মন্দির প্রাঙ্গণে। এই পবিত্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ড.) মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ একটি সমাজের পরিচয় বহন করে। দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় থাকা এই ঐতিহাসিক মন্দিরের পুনর্নির্মাণ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন নয়, বরং আগরতলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁরা আরও বলেন, নবনির্মিত এই মন্দির ভবিষ্যতে শুধু পূজার স্থান হিসেবেই নয়, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং আধ্যাত্মিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদেরও আকর্ষণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে সকাল থেকেই অসংখ্য ভক্ত মন্দিরে উপস্থিত হয়ে পূজা-অর্চনা করেন এবং শ্রীশ্রী নৃসিংহ দেবতা ও শ্রীশ্রী রাম-জানকির আশীর্বাদ লাভ করেন। অনুষ্ঠান শেষে সকল ভক্ত ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের পুনর্জাগরণকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের আশা, নবনির্মিত এই মন্দির আগামী দিনে আগরতলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবে।



