রাজধানী আগরতলায় ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। রমজান আলী নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে খুন করে হাওড়া নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই নদীতে দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স ও দমকল বাহিনীর যৌথ অভিযানে নদী থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আগরতলা শহরের বটতলা জলের ট্রেন সংলগ্ন হাওড়া নদী এলাকায় রমজান আলী নামে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে রমজান আলীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খুন করে দুষ্কৃতীরা তাঁর দেহ হাওড়া নদীতে ফেলে দেয়, যাতে ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করা যায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত থেকেই রমজান আলীর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর সন্ধান না মেলায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরে নদীতে দেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
শনিবার সকালে সদর মহকুমা শাসক মানিক লাল দাস-এর উপস্থিতিতে এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF), সিভিল ডিফেন্স ও দমকল বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে হাওড়া নদীতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নদী থেকে রমজান আলীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে বহু উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ গোটা ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কি না, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত থাকতে পারে—সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই দাবি—দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।



