Monday, June 22, 2026
বাড়িখবররাজ্যশিক্ষা ও ছাত্র অধিকার ইস্যুতে আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা এসএফআই এর

শিক্ষা ও ছাত্র অধিকার ইস্যুতে আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা এসএফআই এর

ত্রিপুরায় শিক্ষা ও ছাত্র অধিকার ইস্যুতে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিল এসএফআই। আগরতলায় অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সর্বভারতীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব বিজেপি সরকার এবং এবিভিপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে তিন দফা দাবিতে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এসএফআই-এর সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক সৃজন দেব এবং রাজ্য সভাপতি প্রীতম শীল। সাংবাদিক সম্মেলনে সৃজন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, ত্রিপুরায় এবিভিপির নাম করে যুব মোর্চার সন্ত্রাস চলছে এবং এসএফআই কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে ছাত্রদের শিক্ষা, মতপ্রকাশ এবং বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজ্যে বহু স্কুলে শিক্ষক সংকট চরম আকার নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ৩৬০টি স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। স্কুল বাঁচাও আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সরকারি শিক্ষাকে শক্তিশালী করার দাবি জানান। এছাড়াও, নিট-ইউজি বিতর্ক ও জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রসঙ্গে কেন্দ্রের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সমালোচনা করে তাঁর নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের দাবি জানান সৃজন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক সৃজন দেব জানান, আগামী দুই মাস ধরে মহকুমা ও জেলা সদরগুলিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি সংগঠিত করা হবে। স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার বেসরকারিকরণের বিরোধিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া, প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিলের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কথাও বলেন সৃজন দেব। একই সঙ্গে এডিসি এলাকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে প্রচারাভিযান চালানোর ঘোষণা দেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণকে উৎসাহিত করছে, যার ফলে দরিদ্র অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এবিভিপির প্রভাব বাড়ছে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ রক্ষায় এসএফআই আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। শিক্ষা বাঁচাও, শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে—এই তিন দফা দাবিকে সামনে রেখে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে এসএফআই। রাজনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে এই কর্মসূচি কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

one × 3 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য