রাজ্যের বর্তমান সরকার জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব অংশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। এর মধ্যে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং সংখ্যালঘু অংশের মানুষের শিক্ষা, স্বা 1/2 ক্ষেত্রের এবং কন্যা ও শিশু সন্তানদের উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন। এই লকে জনবিকাশ কার্যক্রমে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ম্যারিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার আলো না পৌঁছলে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বেরনো যাবে না। শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়ে সংখ্যালঘু অংশের ছাত্রছাত্রীদের প্রযুক্তিগত শিক্ষার সাথে বেশি করে যুক্ত হতে হবে। রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু অংশের মানুষের নানাবিধ সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট রয়েছে। এর অঙ্গ হিসেবে ৫টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তিগুলি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু অংশের ছাত্রছাত্রীদের স্বচ্ছতার সঙ্গে বৃত্তি প্রদান, মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন সহ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উপর সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। বিভিন্ন অংশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির যে বাতাবরণ রয়েছে তা অক্ষুন্ন রেখে রাজ্য সরকার এগিয়ে যেতে চায়। জনগণেরও এই সরকারের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। সরকার চাইছে উন্নয়নের ছোঁয়া সব অংশের মানুষের কাছে গিয়ে পৌঁছুক। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংখ্যালঘু অংশের মানুষের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় এই অংশের মহিলারা তাদের অনেক অধিকার ফিরে পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে সঠিক আইনের শাসন চলছে এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। কোন প্ররোচনায় পা না দিয়ে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব অংশের মানুষকে সম্প্রীতি রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সংখ্যালঘু অংশের ছেলেমেয়েদের জাতীয় শিক্ষানীতির সাথে আরও বেশি করে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে সংখ্যালঘু অংশের ছেলেমেয়েদের স্কলারশিপের জন্য ৯ কোটি ২২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন সংখ্যালঘু অংশের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করায় এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল কোর্সের কৃতি সংখ্যালঘু অংশের ছাত্রছাত্রীদের হাতে চিফমিনিস্টার্স মাইনোরিটি অ্যাওয়ার্ডস, বেগম রোকেয়া গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ডস, মৌলানা আবুল কালাম ম্যারিট অ্যাওয়ার্ডস সহ বিভিন্ন পুরস্কার এবং অর্থের চেক তুলে দেন। এছাড়াও অতিথিগণ সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের একটি বুকলেটের আবরণ উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু নিগম থেকে বিভিন্ন ঋণ প্রাপকদের হাতে অর্থের চেক তুলে দেন এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের হাতে নানা খেলার সামগ্রীও তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৪ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি হোস্টেলের ভার্চুয়ালি উদ্বোধনও করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের সচিব তাপস রায়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবস্বর আলি, হজ কমিটির চেয়ারম্যান শাহ আলম, প্রাক্তন মন্ত্রী বিল্লাল মিয়া, সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা নির্মল অধিকারী প্রমুখ।



