Friday, November 6, 2026
বাড়িখবররাজ্যপুর নির্বাচনে নজরদারিতে ৩৩ পর্যবেক্ষক নিয়োগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ বৈঠক নির্বাচন...

পুর নির্বাচনে নজরদারিতে ৩৩ পর্যবেক্ষক নিয়োগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ বৈঠক নির্বাচন কমিশনের

আগামী ২৭ নভেম্বর রাজ্যের ২১টি পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি আরও জোরদার করতে এবার মোট ৩৩ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এই পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দিতে শুক্রবার আগরতলার রাজ্য অতিথিশালায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার প্রদীপ কুমার চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন নিয়ম, বিধিনিষেধ এবং প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। নির্বাচনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কীভাবে তাঁরা কাজ করবেন এবং মাঠপর্যায়ে কোনও অনিয়মের ঘটনা নজরে এলে কীভাবে তা কমিশনের কাছে জানাবেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়। তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে নির্বাচনী পরিস্থিতির উপর নিরপেক্ষ নজরদারি রাখা। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন, অনিয়ম কিংবা কোনও ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার খবর পাওয়া গেলে তা দ্রুত কমিশনের নজরে আনতে হবে। তবে পর্যবেক্ষকরা সরাসরি রিটার্নিং অফিসারদের কোনও নির্দেশ দিতে পারবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁরা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পরামর্শ দিতে পারবেন।

কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রত্যেক পর্যবেক্ষকের আওতায় থাকা এলাকার সমস্ত ভোটকেন্দ্র তাঁদের নজরদারির মধ্যে থাকবে। শুধু ভোটগ্রহণ নয়, ভোট গণনার সময়ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিত থাকতে হবে। কোনও কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সেই বিষয়ে পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন ও সুপারিশও কমিশনের বিবেচনায় নেওয়া হবে। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় থেকেই পর্যবেক্ষকরা নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের মৌখিক ও লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সামগ্রিক নির্বাচনী পরিস্থিতি পরিদর্শনের পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা এবং ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনও করবেন তাঁরা। তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পর্যবেক্ষকদের কমিশনের কাছে মোট পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই, প্রার্থীপদ প্রত্যাহার, ভোটগ্রহণ এবং ভোট গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এদিকে, পুর নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। তাঁর বক্তব্য, সম্পূর্ণ আইন ও প্রচলিত বিধিবিধান মেনেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কোনও আইন, নিয়ম বা নির্দেশিকা লঙ্ঘন করা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। সব মিলিয়ে আসন্ন পুর নির্বাচনকে ঘিরে নজরদারি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ৩৩ জন পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি অনিয়ম ও বিধিভঙ্গের অভিযোগ দ্রুত কমিশনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন কমিশনের এই পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে, সেদিকেই নজর থাকবে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

1 + twelve =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য