আসন্ন আগরতলা পৌর নিগম নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫১টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার দলীয়ভাবে ৫০টি ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থীরা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংক্রান্ত কিছু সমস্যার কারণে বাকি একটি ওয়ার্ডে এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, শুক্রবার ওই আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। ফলে পুর নিগমের সবকটি ওয়ার্ডেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার লক্ষ্য নিয়েছে কংগ্রেস। এদিন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস ভবন প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিতে যান প্রার্থীরা। পরে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে নিজেদের মনোনয়নপত্র পেশ করেন তাঁরা। মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়ায় এবার পৃথকভাবেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছে কংগ্রেস। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা আগরতলা শহরের গত পাঁচ বছরের উন্নয়ন নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই সময়ে শহরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কোনও কার্যকর মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করা হয়নি। স্মার্ট সিটির উন্নয়নের নামে বরাদ্দ অর্থের অপব্যবহার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, আসন্ন পুর নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং শহরবাসীর উপর চাপানো বিভিন্ন করের বোঝার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোরও একটি মঞ্চ। বিশেষ করে সম্পত্তি কর ও জলকর বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে লড়াই করছে কংগ্রেস। পাশাপাশি পানীয় জল সরবরাহ, পরিবেশ এবং নাগরিক পরিষেবার পরিস্থিতি নিয়েও শাসক দলের সমালোচনা করেন আশীষ কুমার সাহা। তাঁর অভিযোগ, বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে আগরতলা শহরের বহু বাসিন্দাকে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। শহরের নাগরিক পরিষেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে শাসক দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, পুর নির্বাচনে প্রচারের সময় শহরের নাগরিক সমস্যা, করের বোঝা, পানীয় জল এবং কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শাসক দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যাকে সামনে রেখেই আগামী দিনে ভোটারদের সমর্থন চাইবে দল। সব মিলিয়ে আগরতলা পৌর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কংগ্রেস। এখন বাকি একটি ওয়ার্ডের মনোনয়ন জমা এবং পরবর্তী প্রচার কর্মসূচির দিকে নজর দলীয় মহলের।



