আসন্ন পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ক্রমশ বাড়ছে তৎপরতা। ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পৃথকভাবেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই দুই শিবিরের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজও সম্পন্ন করেছে বিরোধী দলগুলি। প্রার্থী ঘোষণা এবং মনোনয়ন দাখিলের ক্ষেত্রে এবার তুলনামূলকভাবে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বামফ্রন্ট। কংগ্রেসের আগেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দিকে এগিয়ে যায় বামেরা। যদিও দুই দলের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা না হওয়ায় নিচুতলার একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখনও জোটের সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর আর সময় নষ্ট না করে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছেন বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরা। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তাঁরা। প্রচারের সময় বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থনের আবেদন জানাচ্ছেন বাম নেতৃত্ব ও কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার সকালে আগরতলা পুর নিগমের ৪৮ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে বামফ্রন্টের এমনই নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি লক্ষ্য করা যায়। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে বামফ্রন্টের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী চম্পা দে। তাঁর সমর্থনে হাঁপানিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার চালানো হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম ডুকলি মহকুমা কমিটির সদস্য অরিন্দম বিশ্বাস, হাঁপানিয়া অঞ্চল কমিটির সম্পাদক আবুল হোসেন, পার্টি নেতা আশীষ চক্রবর্তী, কাউন্সিলর তপন বিশ্বাস-সহ স্থানীয় দলের কর্মী-সমর্থকরা। অন্যদিকে, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডেও প্রচারের গতি বাড়িয়েছেন বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআইএম প্রার্থী তথা বাম যুব আন্দোলনের নেতা নীলোত্তম মজুমদার। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নিয়মিতভাবে ভোটারদের বাড়িতে পৌঁছে জনসংযোগ করছেন এবং নির্বাচনে সমর্থন চাইছেন। প্রচার শেষে দুই প্রার্থীই দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তাঁরা ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নির্বাচনে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে পুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদিকে যখন পৃথকভাবে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস, অন্যদিকে তখন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচার জোরদার করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আগামী দিনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে এই নির্বাচনী লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



