Wednesday, November 4, 2026
বাড়িখবররাজ্যমনোনয়ন জমায় বাধার অভিযোগে রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের সামনে বামফ্রন্টের বিক্ষোভ, কমিশনের ভূমিকা...

মনোনয়ন জমায় বাধার অভিযোগে রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের সামনে বামফ্রন্টের বিক্ষোভ, কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রতন দাসের

আগামী ২৭ নভেম্বর আগরতলা পুরনিগম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভা ও নগর পঞ্চায়েতের নির্বাচন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে উত্তাপ। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট অনুযায়ী বর্তমানে চলছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। কিন্তু মনোনয়ন পর্বের শুরুতেই বিরোধী প্রার্থীদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে রাজ্য বামফ্রন্ট। বামফ্রন্টের অভিযোগ, রাজ্যের একাধিক এলাকায় শাসকদলের বাধার কারণে বিরোধী দলের মনোনীত প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছেন না। শুধু মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি নয়, প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মোহনপুর, জিরানিয়া, রানিরবাজার, কমলপুর এবং শান্তিরবাজারে বামফ্রন্টের প্রার্থীরা শাসকদলের বাধার কারণে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে দাবি বাম নেতৃত্বের। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বিঘ্নে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবিতে বুধবার পথে নামে রাজ্য বামফ্রন্ট। বামফ্রন্টের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বাধা বরদাস্ত করা যাবে না।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএম পশ্চিম জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাস শাসকদল ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে বামফ্রন্টের প্রার্থীরা বাধার সম্মুখীন হলেও পুলিশ কার্যত নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। বিরোধীরা যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই শাসকপক্ষ নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে তিনি দাবি করেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন রতন দাস। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। অথচ বাস্তবে সেই দায়িত্ব পালনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দেশে যেমন ডাবল ইঞ্জিনের সরকার রয়েছে, তেমনই নির্বাচন কমিশনের মধ্যেও ‘ডাবল ইঞ্জিন’ কাজ করছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, রাজ্যের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, তার জন্য নির্বাচন দপ্তর ও প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মনোনয়ন জমা দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি এবং প্রার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগগুলি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করারও দাবি জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন পর্বেই রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। একদিকে বিরোধীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে আগামী ২৭ নভেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তবে বামফ্রন্টের তোলা অভিযোগের বিষয়ে শাসকদল ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

one × five =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য