Tuesday, November 3, 2026
বাড়িখবররাজ্যবিএসএফের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জিতেন্দ্র চৌধুরীর, পাচারকারীদের সঙ্গে শাসকদলের যোগসাজশের...

বিএসএফের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জিতেন্দ্র চৌধুরীর, পাচারকারীদের সঙ্গে শাসকদলের যোগসাজশের অভিযোগ

সোনামুড়া মহকুমার কলমচৌড়া থানাধীন আশাবাড়ি এলাকায় পাচারকারীদের হাতে বিএসএফ জওয়ানদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সীমান্তে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানদের উপর এমন হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা জানানো হচ্ছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার ঘটনার প্রতিবাদে সরব হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় পাচার বাণিজ্য নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। এদিন সিপিআইএমের রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী আক্রান্ত বিএসএফ জওয়ানদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত রক্ষার কাজে নিয়োজিত জওয়ানদের উপর এ ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। তবে শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বিরোধী দলনেতা। কলমচৌড়া সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাচার বাণিজ্য ও এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় পাচারকারীদের একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের একটি বড় অংশ শাসকদলের মদতপুষ্ট। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, যখনই এ ধরনের ঘটনা সামনে আসে, তখন পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেই দায়িত্ব শেষ করছে। কিন্তু পাচার বাণিজ্যের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে শাসকদলের প্রভাবশালী মহলের যোগাযোগ থাকায় তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো অভিযুক্তের নাম পুলিশের নথিতে উঠে এলেই আগরতলা থেকে ফোন যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে বলে দাবি তাঁর। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, সীমান্ত এলাকায় পাচার বাণিজ্য ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার মতো ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তাই এই ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রসঙ্গ টেনেও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর প্রশ্ন, সরকার যদি সত্যিই অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে, তাহলে রাজ্যে একের পর এক এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে কেন? শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি পদত্যাগের দাবি জানান। আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

twelve + sixteen =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য