সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া মহকুমার কলমচৌড়া থানাধীন আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল প্রাক্তন আধাসামরিক বাহিনীর কর্মীদের সংগঠন। মঙ্গলবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে অল ইন্ডিয়া এক্স-প্যারামিলিটারি ফোর্সেসের ত্রিপুরা রাজ্য শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ জওয়ান গৌতম সিনহা অভিযোগ করেন, আশাবাড়িতে বিএসএফের উপর হামলার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। তাঁর দাবি, রাজ্যের মাটিতে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত জওয়ানদের উপর এমন আক্রমণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গৌতম সিনহা বলেন, বিএসএফের জওয়ানরা নিজেদের পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের উপর হামলা শুধু বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গেও জড়িত। তাই এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা যুক্ত, প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত এই বিএসএফ জওয়ানের আরও অভিযোগ, আশাবাড়ির ঘটনায় এক জওয়ানকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, সেই তথাকথিত মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’কে চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে আনারও দাবি জানিয়েছে সংগঠন। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে রাজ্য প্রশাসনের কাছে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, এই সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আগামী ১২ থেকে ১৮ নভেম্বর দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। পাশাপাশি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আশাবাড়ির ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচির পথে হাঁটারও ইঙ্গিত দিয়েছে সংগঠনটি।



