পুজোর আমেজ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে কর্মসংস্থানের দাবিতে ফের পথে নামলেন বেকার যুবক-যুবতীরা। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজধানী আগরতলায় একের পর এক আন্দোলন কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। এসটিজিটি পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ ও নিয়োগের দাবিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলনে শামিল হলেন টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। জানা গেছে, সর্বশেষ টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একাংশের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছে প্রশাসন। তবে এখনও প্রায় ৭৩৬ জন উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। তাঁদের অভিযোগ, যোগ্যতা অর্জন করার পরও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অবিলম্বে বাকি উত্তীর্ণদের নিয়োগপত্র প্রদান এবং বিলম্বের কারণ স্পষ্ট করার দাবিতে শুক্রবার শিক্ষা ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু চাকরিপ্রার্থী এদিনের আন্দোলনে যোগ দেন। নিজেদের দাবি তুলে ধরে তাঁরা দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। তবে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই শিক্ষা ভবন সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। মোতায়েন করা হয় প্রচুর সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান নামানো হয় রাস্তায়। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একসময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের আটক করে। পরে তাঁদের এডি নগর পুলিশ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। চাকরির দাবিতে আন্দোলনে নেমে এভাবে আটক হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁরা কোনও অন্যায় দাবি করছেন না; পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যাঁরা নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়াই তাঁদের মূল দাবি। বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকায় তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই আর বিলম্ব না করে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে, রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের দাবি ঘিরে বেকার যুবক-যুবতীদের ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। টেট উত্তীর্ণদের বাকি নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।



