বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ২৭ শে অক্টোবর….. প্রকাশিত হল খোয়াই এর ষান্মাসিক সাহিত্য পত্র ভুবন ডাঙার শারদীয় সংখ্যা ২০২৬। ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়ে গেল শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢ্যাম কুড়াকুড় ঢাকের বাদ্যি যদিও শেষ তবু ও রয়ে গেছে তার রেশ। এই শারদীয় দুর্গোৎসবে নতুন জামা জুতোর ঘ্রানের সাথে নতুন শারদীয় সংখ্যা কিংবা পূজো সংখ্যাগুলোর ঘ্রাণ ও শিল্প সাহিত্য -সংস্কৃতিপ্রান বাঙালির মনকে মাতিয়ে রাখে। এই চিরাচরিত ঐতিহ্য বাঙালির দীর্ঘদিনের। শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই শারদীয় সাহিত্য। শারদোৎসব আর শারদীয় সাহিত্য যেন বাঙালির মন ও মননের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।পূজো পূজো গন্ধের সাথে শারদীয় পূজো সাহিত্য সংখ্যাগুলোর রকমারি বা ঝা চকচকে শৈল্পিক দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ আর নতুন কাগজের ঘ্রানে সৃষ্টি পাগল মানুষেরা উদ্বেল হয়ে উঠে এই সময়।এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার অর্থাৎ ২৬ শে অক্টোবর সন্ধ্যায় আগরতলা রামনগর ৩ নম্বর শিশু সাহিত্য সংসদের রাজ্য কমিটির অফিসকক্ষ মেধাঙ্গন” হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়ে গেল খোয়াই তথা রাজ্যের অন্যতম সুপরিচিত ষান্মাসিক সাহিত্যপত্র জহরলাল দাস সম্পাদিত “ভুবন ডাঙা” শারদীয় সংখ্যা-১৪৩৩ বাংলা এর।
আগরতলার প্রথিতযশা কবি, শিল্পী,সাহিত্যিক বহুগুনীজনের উপস্থিতিতে ভীড়ে ঠাসা হলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, লেখক তথা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নারায়ন ভট্টাচার্য, রসগল্পকার তথা বিশিষ্ট আইনজীবী রাখাল মজুমদার ও বিশিষ্ট লেখিকা তথা শিশু সাহিত্য সংসদের রাজ্য কমিটির সভাপতি বিথীকা চৌধুরীর হাত ধরে আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়ে গেল শারদীয় ভুবন ডাঙা-১৪৩৩ বাংলার দশম বর্ষ একাদশ প্রকাশ সংখ্যাটি। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উদয় শঙ্কর ভট্টাচার্য,ড. শ্যামাপদ চক্রবর্তী, শিশির অধিকারী প্রমুখ।রাজ্য ও বহিঃরাজ্যের অনেক প্রথিতযশা কবি-লেখক সাহিত্যিকদের লেখায় সমৃদ্ধ হয়েছে ভুবন ডাঙা এবারের শারদীয় সংখ্যাটি। উদ্বোধনী সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
তারপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভুবন ডাঙা ষান্মাসিক সাহিত্যপত্রের সম্পাদক তথা কবি– লেখক জহরলাল দাস। এরপর
অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রাবন্ধিক ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নারায়ন ভট্টাচার্য। ড. ভট্টাচার্য উনার দীর্ঘ আলোচনায় তুলে ধরেন ভুবন ডাঙাসহ রাজ্যের লিটল ম্যাগাজিনগুলোর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং ত্রিপুরার রাজন্য আমলের সাহিত্য থেকে সাম্প্রতিক সময়ের ত্রিপুরার সাহিত্যের গতিপ্রকৃতি। এরপর একে একে আলোচনায় অংশ নেন রাখাল মজুমদার, লেখিকা বিথীকা চৌধুরী সহ আরো অনেকে। কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি অপাংশ দেবনাথ,কবি টিংকু রঞ্জন দাস,কবি নন্দিতা ভট্টাচার্য,কবি সুমিতা বর্ধন,কবি সুস্মিতা দেবনাথ কবি গোপা রায়, কবি মৌসমী কর, কবি বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী,কবি রনতোষ দেব,কবি শান্তনু মজুমদার , কবি শিপ্রা সূত্রধর রায়,কবি শাশ্বতী দেব,কবি সন্ধ্যা ভৌমিক,কবি আকতার হোসেন,কবি অরুণ দে, কবি শকুন্তলা আচার্য,কবি কবি নির্মল চক্রবর্তী কবি মিতা রায় সহ প্রায় ২৫ জন কবি। শ্রুতি নাট্য সংলাপে অংশ নেন শ্রীমতী কাকলি রায়সরকার।কবিদের কবিতা পাঠের ফাঁকে ফাঁকে ছিল গান ও আলোচনা। সবমিলিয়ে গানে – কথায় – কবিতায় ভুবন ডাঙা শারদীয় সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠান সত্যিই জমজমাট হয়ে উঠে।
পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে সঞ্চালনা করেন রাজ্যের বিশিষ্ট গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত শিল্পী স্বপন মুজুমদার।



