Saturday, October 24, 2026
বাড়িখবররাজ্যপুজোর মরশুমে পরিবেশের উপর নজরদারি জোরদার, দশমীঘাটে জলের নমুনা সংগ্রহ দূষণ নিয়ন্ত্রণ...

পুজোর মরশুমে পরিবেশের উপর নজরদারি জোরদার, দশমীঘাটে জলের নমুনা সংগ্রহ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের

উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা অনুসরণ করে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জল, শব্দ ও বায়ুদূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার আগরতলার দশমীঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রভাব খতিয়ে দেখতে জল সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পর্ষদের আধিকারিক ডক্টর রাজীব পাল জানান, প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে ও পরে জল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে তার গুণমান বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দুর্গাপুজোর কার্নিভালের পর শনিবার নিরঞ্জনস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী সাত থেকে আট দিন পরও ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। সংগৃহীত নমুনার পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে সেই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তর, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

জলদূষণের পাশাপাশি উৎসবের মরশুমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজর রাখছে পর্ষদ। আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, গণেশপুজো থেকে দুর্গাপুজো পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় দিন ও রাতের শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে। নীরব এলাকা, আবাসিক অঞ্চল এবং বাণিজ্যিক এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী লক্ষ্মীপুজো ও দীপাবলির সময়ও এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে। উৎসব চলাকালীন শব্দের তীব্রতা পরিমাপের পাশাপাশি বায়ুর গুণমানও পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন পর্ষদের আধিকারিকরা। এর মাধ্যমে উৎসবের সময় পরিবেশের উপর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করাই মূল লক্ষ্য। পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, কর্মীর সংখ্যা সীমিত হলেও আগরতলা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পর্যবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উদয়পুরের জোনাল অফিস থেকেও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংগৃহীত তথ্য ও পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ-সহ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এই পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে আগরতলা মনিটরিং দলের কো-অর্ডিনেটর গৌতম ঘোষ, ডক্টর রাজীব পাল, সিনিয়র অফিসার রতন দেবনাথ, প্রজেক্ট অফিসার প্রসেনজিৎ দাসমোহ এবং বিজ্ঞানী সুশান্ত দাস-সহ পর্ষদের আধিকারিক ও কর্মীরা যুক্ত রয়েছেন। উৎসবের মরশুমে প্রতিমা নিরঞ্জন থেকে শুরু করে শব্দ ও বায়ুদূষণের সম্ভাব্য প্রভাব নির্ণয়ে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে পর্ষদ। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিবেশের গুণমান পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

eleven − 3 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য