এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ-সহ চার দফা দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর আগরতলায় পথে নামতে চলেছে ইন্ডিয়া ব্লকের ত্রিপুরা শাখা। ওইদিন সকাল ১১টায় ওরিয়েন্ট চৌমুহনীতে জমায়েত হয়ে মিছিল সহকারে ত্রিপুরার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাবেন ব্লকের নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা। সেখানে দাবিসনদ পেশ করা হবে। শনিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা-সহ সিপিআই(এম), সিপিআই(এমএল), আরএসপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিনিধিরা। নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ভোটাধিকার রক্ষা এবং সাংবিধানিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখার দাবিতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিরোধী নেতারা।জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শাসক দলের অনুকূলে পরিচালিত করার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধী দলনেতার আরও দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ত্রিপুরাতেও প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও এই সংখ্যার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইন্ডিয়া ব্লকের পক্ষ থেকে উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ, এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আইন পুনর্বিবেচনা ও বাতিলের দাবি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া সংক্রান্ত বিধানের বিরোধিতা। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার স্বার্থে বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী। অন্যদিকে, সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। শাসক দলকে নির্বাচনী সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আশিস কুমার সাহার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারকে উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রকাশ্যে তুলে ধরা বিভিন্ন তথ্য ও নথির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের কথা তুলে ধরেন কংগ্রেস সভাপতি।
তাঁর দাবি, ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রশ্নটি কোনও একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং গণতন্ত্র ও সংবিধানের মর্যাদা বজায় রাখার বৃহত্তর স্বার্থেই এই আন্দোলন। তাই ইন্ডিয়া ব্লকের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষকেও এই কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আশিস কুমার সাহা শাসক দলকে আক্রমণ করে বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলেই জনগণের প্রকৃত সমর্থন প্রতিফলিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। অর্থবল ও বাহুবলের প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ইন্ডিয়া ব্লকের নেতৃত্বের বক্তব্য, আগামী ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটাধিকার রক্ষা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা বজায় রাখার দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এই বিবরণে পাওয়া যায়নি।



