বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ২২শে অক্টোবর…..কয়েকটি বিক্ষিপ্ত সড়ক দুর্ঘটনা এবং কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়েই সুসম্পন্ন হলো খোয়াই মহকুমার ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসব। এবছর খোয়াই জেলা জুড়ে মোট ৪০৮টি দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়। গত ২০২৫ সালের তুলনায় এবছর পুজোর সংখ্যা বেড়েছে ১১টি, এবং এবছর খোয়াই মহাকুমতে পূজা হয়েছে ১৫৫ টি। উৎসবের দিনগুলিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোটা জেলায় প্রায় ১১০০ জন পুলিশ ও টিএসআর কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল l তবে খোয়াই জেলার অন্তর্গত তেলিয়ামুড়া মহকুমায় পুজোর দিনগুলিতে বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা সামনে আসে। এর মধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা উৎসবের আনন্দের মাঝে শোকের ছায়া ফেলেছে।অন্যদিকে, এবছর খোয়াই মহকুমায় বড় বাজেটের পুজো কিংবা দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় টানার মতো বিশেষ আকর্ষণীয় পুজোর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অধিকাংশ ক্লাবই স্বল্প বাজেটের মধ্যে পুজোর আয়োজন করে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় মহকুমার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ও কিছুটা কম পরিলক্ষিত হয়েছে।তবে প্রতিবছরের মতো এবছরও খোয়াইয়ের রামচন্দ্রঘাটস্থিত ষষ্ঠ ব্যাটেলিয়ন টিএসআর ক্যাম্পে আয়োজিত দুর্গাপুজো দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। শুধু খোয়াই মহকুমা নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য এলাকা থেকেও অসংখ্য মানুষ এই পুজো দেখতে ভিড় জমান। দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগমের কারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে যথেষ্ট তৎপর থাকতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশকর্মীও নিয়োগ করতে হয়েছিল।এদিকে, বুধবার দিনটি ছিল বিজয়া দশমীর। এই উপলক্ষে খোয়াই মহকুমার বিভিন্ন ছোট-বড় পুজোমণ্ডপ এবং বাড়ির পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে খোয়াই পুর পরিষদের পক্ষ থেকে বনকরস্থিত খোয়াই নদীর দশমীঘাটে বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবছরও পুর পরিষদের উদ্যোগে দশমী যাত্রা ও প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়।প্রতিমা নিরঞ্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ঘাটে আলোর ব্যবস্থা, প্রতিমা নামানো এবং নিরঞ্জন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে পুর পরিষদের কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খোয়াই পুর পরিষদের কর্মীদের সঙ্গে দমকল বিভাগের কর্মী এবং প্রচুর পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়।সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কাউন্সিলরদেরও দশমীঘাটে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তাঁদের উপস্থিতি এবং পুর পরিষদের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব অনেকটাই সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। শুধু খোয়াই পুর পরিষদ এলাকার প্রতিমাই নয়, পার্শ্ববর্তী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাগুলির বেশ কয়েকটি প্রতিমাও নিরঞ্জনের জন্য খোয়াই দশমীঘাটে নিয়ে আসা হয়।তবে এই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যেও একটি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে খোয়াই মহকুমা শাসকের অধীনস্থ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মীদের দশমীঘাটে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জলাশয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। ফলে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।সব মিলিয়ে, কয়েকটি বিক্ষিপ্ত সড়ক দুর্ঘটনা এবং কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও খোয়াই মহকুমায় ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসব মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতে পুলিশ প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিজয়া দশমীতে পুর পরিষদের উদ্যোগে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থাপনা সামগ্রিকভাবে প্রশংসিত হলেও, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর অনুপস্থিতির অভিযোগ ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে নিয়ে এসেছে খোয়াই মহকুমা বাসির।



