রাজ্যে শারদোৎসবের আবহ এখনও কাটেনি। আগরতলায় কার্নিভালের মধ্য দিয়ে সরকারি উদ্যোগে শারদ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এরপরই রয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। আর লক্ষ্মীপূজার পরেই রাজ্যে পুর নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগরতলা পুর নিগম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। আসন্ন এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার দাবি নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলো রাজ্য বামফ্রন্ট কমিটি। বৃহস্পতিবার বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং বিরোধী দলগুলি যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি দাবি সনদ তুলে দেওয়া হয়।
বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে জানান, অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই আসন্ন পুর নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করার দাবি জানানো হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয় এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বামফ্রন্ট। পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যাতে ভয়ভীতিহীন পরিবেশে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সে জন্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলিকে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। বামফ্রন্ট নেতৃত্বের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার সিপিআইএমের রাজ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সাক্ষাৎ ও দাবিগুলির বিষয়ে বিস্তারিত জানান মানিক দে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী বামফ্রন্টের উত্থাপিত দাবিগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিন রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি-সহ আরও কয়েকটি বিষয় নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে, আগরতলা পুর নিগম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতের নির্বাচনের নির্ঘণ্ট কবে ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিশ্চিত নয়। তার আগেই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করল বামফ্রন্ট।



