Saturday, October 10, 2026
বাড়িখবররাজ্যসড়ক দুর্ঘটনা রুখতে ট্রাফিক কর্মীদের হাতে বিভিন্ন সরঞ্জাম, সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর

সড়ক দুর্ঘটনা রুখতে ট্রাফিক কর্মীদের হাতে বিভিন্ন সরঞ্জাম, সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যে পরিবহন দপ্তরের পক্ষ থেকে ট্রাফিক কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো বিভিন্ন সরঞ্জাম। শনিবার এডি নগর পুলিশ মাঠে ত্রিপুরা পুলিশ ও পরিবহন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, ত্রিপুরা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহা নির্দেশক এবং পরিবহন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, নিজের জীবন সুরক্ষিত রাখতে প্রত্যেকেরই হেলমেট ব্যবহার করা উচিত। শুধু সঠিকভাবে গাড়ি চালানোই নয়, রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। পথচারীদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ সড়ক নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে পুজো প্যান্ডেলগুলিতে ভিড় ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পুজো কমিটিগুলির বৈঠকে অন্তত দশ মিনিট সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হলে তা সমাজের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এক্ষেত্রে পরিবহন দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করার উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহ পালন করাই যথেষ্ট নয়, এর সুফল বাস্তবে পৌঁছে দিতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও ক্যালেন্ডার তৈরি করা দরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। রাজ্যে ক্রমাগত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে অনেকের কাছেই একাধিক যানবাহন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যানবাহনের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান। সামগ্রিকভাবে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুষ্ঠানে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

six + seventeen =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য