নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সরব হয়ে রাজপথে নামল এসএফআই। রবিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বহু ছাত্র ও যুব কর্মী। মিছিল থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে ছাত্র-যুব কর্মীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। মিছিলের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করা এবং মানবাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি সামনে তুলে ধরেন। মিছিল থেকে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়। সেই জায়গা থেকেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতৃত্ব।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক সৃজন দেব বলেন, মানবাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা এবং গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার দাবিতেই তাঁদের এই আন্দোলন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ না করা হলে আগামী দিনেও মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সৃজন দেবের বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসে। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন। এদিনের মিছিল থেকে আন্দোলনকারীরা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সামনে আনেন। তাঁদের বক্তব্য, মানুষের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ হওয়া উচিত নয়। সেই দাবিতেই ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে হাঁটছে সংগঠন। রবিবারের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে এসএফআই। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন। সব মিলিয়ে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে এসএফআইয়ের এই মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক ও ছাত্র মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার মতো বিষয়কে সামনে রেখে সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী দিনে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।



