বামুটিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের কালিবাজারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ ও ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগের ঘটনায় এবার মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। উল্লেখ্য, গতকাল বামুটিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কালিবাজারে দলের যুব সংগঠনের বিভাগীয় সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। অভিযোগ ওঠে, বিজেপি বামুটিয়া মণ্ডল সভাপতি-র নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী তাঁর কনভয় আটকানোর চেষ্টা করেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কালো পতাকা দেখানোরও অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এর মধ্যেই সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বামুটিয়ার ঘটনার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি নিজে খোঁজ নিয়েছেন। পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য ডাবল এসকটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তিনি রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশকের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষের পরিচয় এবং সেখানে জমায়েত হওয়ার কারণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পুলিশের কাছ থেকে সামনে এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, সেখানে ১০৩২৩-এর সঙ্গে যুক্ত মানুষজন উপস্থিত ছিলেন। আবার অন্য একটি সূত্রে রোজভ্যালি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মানুষজনের সেখানে জমায়েত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে জমায়েতের কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য থাকলেও এ ধরনের আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, যে কারণেই মানুষজন সেখানে জমায়েত হয়ে থাকুন না কেন, এভাবে কোনও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ বা হামলার ঘটনা কাম্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যেই থাকুক না কেন, এভাবে ঘটনা ঘটানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়।” একইসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক হিংসা ও সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে সকলকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, গত ৩৫ বছরে যে ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে সবাইকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এদিকে, বামুটিয়ার ঘটনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং পুলিশ অত্যন্ত ভালো কাজ করেছে বলে স্বীকার করেছেন। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও রাস্তায় এ ধরনের সংঘাত বা হামলার ঘটনা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।



