সড়ক দুর্ঘটনা রাজ্যের কাছে নতুন কোনো ঘটনা নয়। বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো থেকে শুরু করে অসচেতনতা—বিভিন্ন কারণে প্রতিদিনই রাজ্যের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। এর জেরে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দুর্ঘটনা রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক উদ্যোগ থাকলেও মানুষের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। তবে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ কমেছে। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাজ্যে মোট ৫৭৭টি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ২৬১ জনের। ২০২৪ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৫৭৮টি এবং প্রাণ হারান ২২৬ জন। ২০২৫ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫২৭টিতে, মৃত্যু হয় ১৯৭ জনের। চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত রাজ্যে ৪১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে মৃত্যু হয়েছে ১৩৪ জনের। দুর্ঘটনার এই সংখ্যা আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকারের পরিবহন দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজন করা হলো জেলা স্তরের সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা কর্মসূচি। মঙ্গলবার আগরতলা সরকারি অতিথি আবাসে অনুষ্ঠিত হয় এই কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, পরিবহন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
কেন্দ্রীয় সরকারের সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প, বিশেষ করে ‘রাহবি’, ‘পিএম রাহাত’ এবং ‘হিট অ্যান্ড রান’ প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে সচেতন করার উপায় নিয়ে এদিনের কর্মসূচিতে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে তৃণমূল স্তরে কীভাবে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায় এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়েও রণকৌশল নির্ধারণ করা হয়। কর্মসূচি শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে নয়, মানুষের অংশগ্রহণে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা আরও কমানো সম্ভব বলে তিনি জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে ধীরে ধীরে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমছে। পরিবহন দপ্তর এবং সাধারণ মানুষের যৌথ সহযোগিতার ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। তবে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও নিচে নামিয়ে আনতে হলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সড়কে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে এদিনের কর্মসূচি থেকে বার্তা দেওয়া হয়।



