রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে মেলাঘরের রাজঘাট একটি পরিচিত নাম। প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ রাজঘাটে ছুটে আসেন। আর পর্যটকদের জলভ্রমণের আনন্দকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে দীর্ঘ বহু বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন রাজঘাটের মাঝিরা। তাঁদের পরিশ্রম, সাহস, ত্যাগ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মেলাঘরের পর্যটন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিজেদের পরিবারের প্রতিপালনের পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষের মনোরঞ্জন ও নিরাপদ জলভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিতে রাজঘাটের মাঝিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই মানুষগুলির অবদান অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়। সেই আড়ালে থাকা শ্রমজীবী মানুষগুলির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাতেই এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল নীলজ্যতি ট্যুর ও ট্রেভেলস।
বিশ্বকর্মা পূজাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার মেলাঘরের রাজঘাটের ২৫ জন মাঝিকে সম্মান জানানো হয় নীলজ্যতি ট্যুর ও ট্রেভেলসের পক্ষ থেকে। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনার এই বিশেষ দিনে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ অর্থ, নতুন বস্ত্র এবং সম্মানপত্র। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে যাঁরা রাজ্যের পর্যটনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে। নীলজ্যতি ট্যুর ও ট্রেভেলসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বকর্মা পূজা মূলত শ্রম, কারিগরি দক্ষতা এবং কর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি উৎসব। তাই এই বিশেষ দিনেই রাজঘাটের মাঝিদের সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেবাদিদেব বিশ্বকর্মার আশীর্বাদধন্য পুত্র হিসেবে বিবেচিত এই পরিশ্রমী মাঝিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁদের পাশে থাকার একটি ছোট্ট প্রয়াস হিসেবেই এই কর্মসূচি। সংস্থার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, রাজ্যের পর্যটন ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মেলাঘরের রাজঘাটের মাঝিদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার নয়। বছরের পর বছর ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁরা পর্যটকদের জলভ্রমণের সুযোগ করে দিয়ে আসছেন। তাঁদের জীবিকার সঙ্গে যেমন এই কাজ জড়িয়ে রয়েছে, তেমনই তাঁদের পরিশ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু পর্যটকের আনন্দের স্মৃতি।
তবে মাঝিদের সম্মান জানানোই নীলজ্যতি ট্যুর ও ট্রেভেলসের সামাজিক উদ্যোগের একমাত্র উদাহরণ নয়। সংস্থার পক্ষ থেকে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটিকেও গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই পূর্ববর্তী বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে এবার পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রাজঘাটের মাঝিদের সম্মানিত করা হলো। বিশ্বকর্মা পূজার দিন ২৫ জন মাঝির হাতে নগদ অর্থ, নতুন বস্ত্র ও মানপত্র তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় আন্তরিক পরিবেশ। সম্মানপ্রাপ্ত মাঝিদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে রাজঘাটে পর্যটকদের জলভ্রমণের পরিষেবা দিয়ে আসছেন। তাঁদের শ্রম ও অবদানকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ায় খুশি মাঝিরাও। নীলজ্যতি ট্যুর ও ট্রেভেলসের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের মাধ্যমে মূলত একটি বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে—পর্যটনের বিকাশ শুধু পরিকাঠামো বা আকর্ষণীয় পর্যটনস্থলকে ঘিরে হয় না; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে অসংখ্য সাধারণ মানুষের শ্রম, দক্ষতা ও নিষ্ঠা। তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সম্মান জানানোও পর্যটন বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বকর্মা পূজার পবিত্র দিনে তাই রাজঘাটের ২৫ জন মাঝিকে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে নীলজ্যতি ট্যুর ও ট্রেভেলসের পক্ষ থেকে উঠে এল শ্রমের মর্যাদা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা। আগামী দিনেও এ ধরনের জনমুখী ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।



