উৎসবের মরশুমের প্রাক্কালেও রাজ্যে যেন কিছুতেই থামছে না চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। নির্জনতার সুযোগ নিয়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় কার্যত পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে চোরের দল। ফলে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। এরই মধ্যে রাজধানী আগরতলায় ফের চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বরের। আগরতলার শিবনগর লোটাস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি পণ্যবাহী গাড়ি থেকে চালকের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে নগদ টাকা ও চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চোরের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, গাড়ির চালকের আসনের সামনের অংশে রাখা ছিল নগদ ৫৬ হাজার টাকা এবং দুটি চেক। চালক গাড়ি থেকে অনুপস্থিত থাকার সুযোগেই চোরের দল সেখানে হানা দিয়ে টাকা ও চেক নিয়ে চম্পট দেয় বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণ পর গাড়িতে ফিরে এসে বিষয়টি নজরে আসে চালকের। এরপর ঘটনাটি জানানো হয় মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির পুলিশকে। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থল এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। অবশেষে ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে যোগেন্দ্রনগর এলাকার সাগর রায়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুইজনের নাম সামনে আসে। এরপর পুলিশ বিশাল সাহা এবং সুমন মিয়া নামে আরও দুজনকে আটক করে। ধৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া নগদ টাকার একটি অংশও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া মোট ৫৬ হাজার টাকার মধ্যে বর্তমানে ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বাকি টাকা এবং দুটি চেকের বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতদের কাছ থেকে এই চুরি-কাণ্ডে আরও বেশ কয়েকজনের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ফলে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বাকিদেরও দ্রুত জালে তুলতে তৎপর হয়েছে মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির পুলিশ। ধৃত তিনজনকে আদালতে হাজির করে তাদের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের উদ্দেশ্য, রিমান্ডে নিয়ে ধৃতদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি যাওয়া বাকি টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা এবং এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা।
এদিকে, উৎসবের মরশুমের আগে রাজধানীতে পরপর চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিনের ব্যস্ততার মাঝেও কিংবা সামান্য নির্জনতার সুযোগ পেলেই চোরের দল হাত সাফাই করছে—এমন অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শিবনগরের এই ঘটনায় দ্রুত তিনজনকে আটক করতে পারলেও, পুরো চক্রের হদিস বের করতে পুলিশ এখন কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। সোমবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে গোটা ঘটনার কথা জানান মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ দীপঙ্কর দেবনাথ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং চুরি-কাণ্ডে জড়িত বাকিদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



