বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মহানায়ক উত্তম কুমারের নাম চিরস্মরণীয়। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং অনন্য উপস্থিতি আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এবার কলকাতার ICCR-এর যামিনী রায় গ্যালারিতে আয়োজন করা হলো বিশেষ স্মারক প্রদর্শনী ‘উত্তম – দ্য মহানায়ক’। শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে উত্তম কুমারের বর্ণময় অভিনয়জীবন এবং তাঁর সময়ের নানা স্মরণীয় মুহূর্ত।প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে মহানায়কের অভিনীত বিভিন্ন জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের পোস্টার এবং প্রচারসামগ্রী। পাশাপাশি প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের নানা স্থিরচিত্র, কিংবদন্তি সহ-অভিনেতা এবং তৎকালীন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর ছবি। এছাড়াও ছিল বিভিন্ন গ্রামোফোন রেকর্ডের কভারসহ একাধিক দুর্লভ ও স্মরণীয় সংগ্রহ। সব মিলিয়ে এই প্রদর্শনী যেন দর্শকদের কয়েক দশক পিছিয়ে নিয়ে যায় বাংলা চলচ্চিত্রের সেই স্বর্ণযুগে। উত্তম কুমারের অভিনয়জীবনের নানা অধ্যায়, তাঁর পর্দার উপস্থিতি এবং সমকালীন চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিভিন্ন স্মৃতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও ছিল তারকা সমাগম। উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্য এবং তাঁর অসংখ্য অনুরাগী। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কার্যত দর্শক-অনুরাগীদের ভিড়ে ‘হাউসফুল’-এর চেহারা নেয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রকাশ করা হয় ‘উত্তম কুমার পিকচার পোস্টকার্ড’-এর একটি বিশেষ সেট। অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়, মহানায়ক উত্তম কুমারের পুত্রবধূ মহুয়া চট্টোপাধ্যায় এবং শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের ডিরেক্টর রূপক সাহা আনুষ্ঠানিকভাবে পোস্টকার্ড সেটটি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় জানান, উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁর হয়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং মহানায়কের ব্যক্তিত্বের আভা অনুভব করার সুযোগ হয়েছিল বলে জানান তিনি। এই স্মরণ অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করার জন্য শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সকে ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী।দেবশ্রী রায় বলেন, উত্তম কুমার তাঁর অভিনীত প্রতিটি চরিত্রকে নিজের মধ্যে ধারণ করতেন। তাঁর নিজস্ব এবং অনন্য অভিনয়শৈলীর কারণেই মহানায়ক আজও দর্শকের কাছে অমর হয়ে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উত্তম কুমারের পুত্রবধূ মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ও স্মৃতিচারণে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, উত্তম কুমারকে শ্বশুর হিসেবে পাওয়া তাঁর কাছে সৌভাগ্যের বিষয়। পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে মহানায়ককে কাছ থেকে দেখার এবং তাঁর বাস্তব জীবনের ব্যক্তিত্ব অনুভব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, পর্দায় এবং অগণিত অনুরাগীর হৃদয়ে উত্তম কুমার যেমন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন, বাস্তব জীবনেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল একইভাবে আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী।
অন্যদিকে, এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের ডিরেক্টর রূপক সাহা বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান বরাবরই উৎকর্ষ এবং সত্যিকারের মূল্যবান বিষয়কে উদযাপন করে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মতে, উত্তম কুমার এমন এক নাম, যার মূল্য সত্যিই সোনার সমান।এই বিশেষ স্মারক প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন বিশিষ্ট সংগ্রাহক সুদীপ্ত চন্দ। তাঁর সংগ্রহ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে উত্তম কুমারের অভিনয়জীবনের নানা স্মরণীয় নিদর্শন এক ছাদের নিচে তুলে ধরা হয়েছে।মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে আয়োজিত এই প্রদর্শনী শুধু একজন কিংবদন্তি অভিনেতার স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরার উদ্যোগ নয়, একইসঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বর্ণোজ্জ্বল সময়কে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগও তৈরি করেছে। তাঁর অভিনয় এবং ব্যক্তিত্বের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যে আজও অটুট, প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনুরাগীদের উপস্থিতিই যেন তার প্রমাণ।



