Saturday, September 5, 2026
বাড়িখবররাজ্য১১ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার সড়ক-রেল অবরোধ, স্তব্ধ পরিবহন ব্যবস্থা—চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

১১ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার সড়ক-রেল অবরোধ, স্তব্ধ পরিবহন ব্যবস্থা—চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী দাবিগুলি বাস্তবায়নের দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার ভোর থেকেই ৭২ ঘণ্টার সড়ক ও রেল অবরোধ কর্মসূচিতে সামিল হলেন আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠনগুলির সদস্যরা। সাতটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের জেরে এদিন সকাল থেকেই রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রেলপথেও অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার ভোরে বড়মুড়া চন্দ্র সাধুপাড়া এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তাঁরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ১১ দফা দাবি পূরণের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে আটকে পড়ে একাধিক যানবাহন। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী গাড়ি থেকে শুরু করে পণ্যবাহী যানও সমস্যার মুখে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রী, নিত্যযাত্রী এবং পথচারীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। শুধু সড়কপথেই নয়, আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। জানা গেছে, বিঘুদাস এলাকায় রেলপথেও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি খোয়াই চৌমুহনী এলাকাতেও সড়ক অবরোধের কর্মসূচি চলছে বলে খবর। ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, অবরোধকে কেন্দ্র করে বড়মুড়া চন্দ্র সাধুপাড়া এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করারও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপার নমিত পাঠক। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৭২ ঘণ্টার এই অবরোধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আগরতলার পরিবহন পরিষেবাতেও। সকাল থেকেই দূরপাল্লার বাস ও জীপ পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরে আগরতলা চন্দ্রপুর আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপস্থিতিও অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই কম ছিল। সাধারণত সকাল থেকেই চন্দ্রপুর বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভিড় দেখা গেলেও এদিন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। একাধিক দূরপাল্লার বাস ও জীপ পরিষেবা বন্ধ থাকায় টার্মিনাল চত্বর কার্যত নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। গন্তব্যে যাওয়ার জন্য টার্মিনালে আসা অনেক যাত্রীকে শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হয় অথবা বিকল্প পরিবহনের সন্ধান করতে হয়। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে যারা বিভিন্ন জেলা কিংবা রাজ্যের বাইরে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন, তাঁরাও সমস্যায় পড়েন। পরিবহন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের একাংশকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। অবরোধের প্রভাব শুধু যাত্রী পরিষেবাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এই পথ অবরুদ্ধ থাকলে বহিরাজ্যের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহনের উপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রত্যাশিতভাবে দাবিগুলি বাস্তবায়িত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১১ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার এই অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের এই কর্মসূচির ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ চললে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে। একইসঙ্গে ৭২ ঘণ্টার কর্মসূচি চলাকালীন রাজ্যের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

four × three =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য