আগামী ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর আগরতলা টাউন হলে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সারা ভারত কৃষক সভার ত্রিপুরা রাজ্য সম্মেলন। সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই সংগঠনের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। সম্মেলনের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর আস্তাবল ময়দানে আয়োজিত হবে প্রকাশ্য সমাবেশ। এই কর্মসূচি ও সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় কৃষক ভবনে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত জানান সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি অঘোর দেববর্মা, সম্পাদক পবিত্র কর ও সহসম্পাদক রতন দাস।
নেতৃত্বরা জানান, তিন দিনের এই রাজ্য সম্মেলনে ত্রিপুরার কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি দেশের কৃষিক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি, কৃষকদের আর্থিক অবস্থা এবং কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় স্থান পাবে।কৃষক সভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষকদের স্বার্থে আগামী দিনে সংগঠনের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেবেন। কৃষকদের সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলির সমাধানের দাবিতে আগামী দিনের কর্মসূচি ও আন্দোলনের রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে বলে জানান নেতৃত্বরা। সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষিনীতি নিয়েও সরব হন কৃষক সভার নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের স্বার্থে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কৃষকদের বহু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। কৃষকদের দুর্দশা দূর করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
কৃষকদের ঋণের বোঝা, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য, কৃষি উপকরণের খরচ এবং কৃষকদের আয়সহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে কৃষকরা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়েন এবং কোনো কৃষককে চরম সিদ্ধান্ত নিতে না হয় বলেও মত প্রকাশ করেন নেতৃত্বরা।একইসঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে কৃষিক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়। কৃষির পাশাপাশি মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উঠে আসে সাংবাদিক সম্মেলনে। কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের আয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো সম্ভব বলেও উল্লেখ করা হয়।কৃষকদের স্বার্থে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের সহায়তা এবং কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সব মিলিয়ে, ১ সেপ্টেম্বর আস্তাবলে প্রকাশ্য সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্মেলন। সম্মেলন থেকে কৃষকদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা নিয়ে কী ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



