সাত দফা দাবি-দাওয়া নিয়ে আত্মসমর্পণকারী এলএলএফটি গোষ্ঠীর সদস্যদের পথ অবরোধকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল তেলিয়ামুড়ার হাতাই কাতর সাধুপাড়া এলাকায়। মঙ্গলবার আন্দোলনকারীরা আগরতলা-আসাম জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। এর জেরে কিছু সময়ের জন্য জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় প্রশাসন ও পুলিশ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এলএলএফটি থেকে আত্মসমর্পণের পর তাঁদের জন্য সরকারিভাবে কী কী সুযোগ-সুবিধা, পুনর্বাসন ও অন্যান্য ব্যবস্থা রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের সঠিকভাবে জানানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তাঁদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনও সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই জাতীয় সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
অবরোধের খবর পেয়ে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহার নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবি নিয়ে আগামী ২১ অগস্ট আলোচনায় বসার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, আগামী ২১ অগস্ট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসে তাঁদের সমস্ত দাবি ও সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আত্মসমর্পণকারী এলএলএফটি সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে কী কী সুযোগ-সুবিধা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে, তাও তাঁদের বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরই জাতীয় সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
তবে অবরোধ প্রত্যাহার করলেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, আগামী ২১ অগস্টের বৈঠকে সাত দফা দাবির সন্তোষজনক সমাধান না হলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। ফলে আপাতত স্বাভাবিক হয়েছে জাতীয় সড়কে যান চলাচল, কিন্তু আন্দোলনকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে জল্পনা। এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, পথ অবরোধ করে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আলোচনার টেবিলে বসেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আত্মসমর্পণকারী এলএলএফটি সদস্যদের দাবিগুলি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের জন্য সরকারের তরফে যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলি তাঁদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। তাঁদের সমস্যাগুলি কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করা হবে।
পাশাপাশি গত ৩৫ বছরে জনজাতি জনগোষ্ঠীর স্বার্থে উন্নয়নের ক্ষেত্রে তৎকালীন সরকারগুলি প্রত্যাশিত ভূমিকা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার জনজাতি সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। জনজাতি জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং তাঁদের উন্নয়নের প্রশ্নে সরকার কোনওভাবেই পিছিয়ে থাকবে না বলেও আশ্বাস দেন বিকাশ দেববর্মা। এখন মূল নজর ২১ অগস্টের বৈঠকের দিকে। ওই বৈঠকে আত্মসমর্পণকারী এলএলএফটি সদস্যদের সাত দফা দাবির কতটা সমাধান হয়, নাকি আলোচনায় সমাধানসূত্র না মিললে ফের জাতীয় সড়কসহ বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামেন তাঁরা—সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।



