২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট চন্দ্রপৃষ্ঠের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করে ভারত। চাঁদের মাটিতে মহাকাশযান অবতরণকারী বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারত ইতিহাস তৈরি করে। একইসঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি সফলভাবে অবতরণকারী প্রথম দেশ হিসেবেও নজির গড়ে দেশ। চন্দ্রযান-৩-এর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের স্মৃতিকে সামনে রেখে ২৩ আগস্ট দিনটিকে জাতীয় মহাকাশ দিবস হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই প্রতিবছর দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে এই বিশেষ দিন।
চলতি বছরও জাতীয় মহাকাশ দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি। মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভারতের অগ্রগতি, উদ্ভাবন এবং বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই এবারের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার আগরতলা প্রজ্ঞা ভবনে জাতীয় মহাকাশ দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ত্রিপুরা স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টার এবং নর্থ ইস্টার্ন স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, দপ্তরের সচিব চৈতন্য মূর্তি, অধিকর্তা মহেন্দ্র সিং সহ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানে ভারতের মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতি থেকে শুরু করে চন্দ্রযান-৩-এর ঐতিহাসিক সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তির গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, নগর ও গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তি কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা নিয়েও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিশেষ করে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্য পূরণে মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভূমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মকে এই ক্ষেত্রে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করা এবং তাঁদের সামনে ভারতের মহাকাশ গবেষণার সাফল্য তুলে ধরাই ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য। আয়োজকদের বক্তব্য, চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য শুধু ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে একটি গৌরবের অধ্যায় নয়, দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছেও এটি অনুপ্রেরণার উৎস। সেই সাফল্যকে সামনে রেখে আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং মহাকাশ গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যেই জাতীয় মহাকাশ দিবসের এই আয়োজন। ত্রিপুরাতেও মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মহাকাশ বিজ্ঞান ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



