Tuesday, August 11, 2026
বাড়িখবররাজ্য১৮ দফা দাবিতে আগরতলায় সিপিআইয়ের গণঅবস্থান, কেন্দ্র-রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ

১৮ দফা দাবিতে আগরতলায় সিপিআইয়ের গণঅবস্থান, কেন্দ্র-রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ

দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক দাবিকে সামনে রেখে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিআই। পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম কমানো, সরকারি শূন্যপদ অবিলম্বে পূরণ করে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, সবার জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান, আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আইন দ্রুত কার্যকর করা এবং শ্রমিকবিরোধী শ্রম কোড বাতিলসহ মোট ১৮ দফা দাবিকে সামনে রেখে আগামী ১ সেপ্টেম্বর দিল্লি অভিযানের ডাক দিয়েছে সিপিআই। সর্বভারতীয় এই কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার আগরতলায় গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করল সিপিআইয়ের ত্রিপুরা রাজ্য পরিষদ। এদিন আগরতলা সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকায় ১৮ দফা দাবির ভিত্তিতে তিন ঘণ্টার এই গণঅবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই রাজ্য পরিষদের সম্পাদক মিলন বৈদ্যসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

এদিনের গণঅবস্থান থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে সরব হন সিপিআই নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, দেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকেও আরও শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়। সিপিআই নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শ্রমিকবিরোধী শ্রম কোড বাতিল, মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আইনসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর এবং দেশের প্রতিটি অংশের নাগরিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নেরও দাবি তোলা হয়।

গণঅবস্থান কর্মসূচি প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে সিপিআই রাজ্য পরিষদের সম্পাদক মিলন বৈদ্য বলেন, সম্প্রতি দিল্লিতে দলের জাতীয় পরিষদের কনফারেন্সে কেন্দ্রের সরকার পরিবর্তনের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তিনি জানান, সর্বভারতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ত্রিপুরায় ১৮ দফা দাবিকে সামনে রেখে এই গণঅবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর দিল্লি অভিযানের প্রতিও সংহতি জানানো হয় এদিনের কর্মসূচি থেকে। সিপিআই নেতৃত্বের বক্তব্য, শুধু আন্দোলন কর্মসূচি পালন নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলিকে সামনে রেখে আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

three × one =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য