রাজ্যের শহর থেকে গ্রাম—বেহাল রাস্তাঘাট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় যান চলাচল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার রাজ্যের রাস্তাঘাট সংস্কারে বড়সড় উদ্যোগ নিল পূর্ত দপ্তর। দুর্গাপূজার আগেই সংস্কারহীন রাস্তাগুলির মেরামতির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এই উদ্যোগের কথা জানান পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে।
পূর্ত দপ্তরের সচিব জানান, রাজ্যে মোট ১,০০৬টি রাস্তা, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৬২২ কিলোমিটার, বর্তমানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সমস্ত রাস্তার মেরামতির কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পূর্ত দপ্তর। অর্থাৎ দুর্গাপূজার প্রায় ১৫ দিন আগেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারহীন রাস্তাগুলির মেরামতির কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু শহরাঞ্চলের রাস্তা নয়, গ্রামীণ এলাকার রাস্তাঘাটের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১১৯টি রাস্তা, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৬৫ কিলোমিটার, সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্কারহীন অবস্থায় থাকা বিভিন্ন সেতুও মেরামতির আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান পূর্ত সচিব।প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি, ইতিমধ্যে শুরু হওয়া সংস্কারকাজের অগ্রগতি এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুর্গাপূজার আগে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির মেরামতির কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আধিকারিকদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।বর্ষার পর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে। ফলে তার আগেই রাস্তাঘাটের সংস্কার সম্পন্ন হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি সংস্কারের গুণগত মান বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ত দপ্তর তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।



