পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফল প্রকাশ নিয়ে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালবাহানার হাত থেকে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের ত্রিপুরা প্রদেশ ।শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এবিভিপি ত্রিপুরা প্রদেশের নেতৃবৃন্দ এই হুঁশিয়ারি দেন। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধীনস্থ কলেজগুলিতে চলমান প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণেই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ঘোর প্রশ্ন চিহ্নের মুখে বলে উদ্বেগের সাথে জানান এবিভিপি নেতৃবৃন্দ।
কলেজ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন মহাবিদ্যালয় গুলি। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের ত্রিপুরা প্রদেশ নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলির চলমান প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার শিকার হচ্ছেন রাজ্যের হাজার হাজার কলেজ পড়ুয়ারা ।বহু ছাত্র-ছাত্রী ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও তাদের এবসেন্ট বা অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। ফল প্রকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ওয়েবসাইট চালু করেছে তাতে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারছেন না ।ভালো ছাত্রছাত্রীরা ঢালাও হারে ব্যাক পাচ্ছেন। ব্যাক পরীক্ষা দেওয়ার পরও ফলাফলে একই নম্বর আসছে।এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এবিভিপির ত্রিপুরা প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর হালদার জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের সর্বশেষ সেমিস্টারের ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের দেখতে পারা যাচ্ছে না ।এই মার্কশিট জমা না দিলে ছাত্রছাত্রীরা চূড়ান্ত সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে পারবেন না ।এই ক্ষেত্রে হাতে মাত্র দুই থেকে তিনদিন সময় রয়েছে ।বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করলে কর্তৃপক্ষ এর সময়সীমা বৃদ্ধি করে দিয়েছে। কিন্তু কেন পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে না বা কেন পরীক্ষায় উপস্থিত থাকলেও ছাত্র-ছাত্রীদের এবসেন্ট দেখানো হচ্ছে বা বারবার ব্যাক ফলাফল আসছে সেই সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর চাপিয়ে দিয়েছে ।অপরদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়েছে ।সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নাজেহাল বলে জানান তিনি। তাদের ভবিষ্যৎ ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে ।সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, অবিলম্বে ছাত্রছাত্রীদের এই হয়রানি বন্ধ করা না হলে আগামী দিনে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ রাজ্যের সব কলেজ পড়ুয়াদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও এবং এমনকি উচ্চ শিক্ষা দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পরবর্তী সময়ে আরো বৃহত্তর আন্দোলন সংঘটিত করে তোলা হবে যা গোটা রাজ্যবাসী প্রত্যক্ষ করবেন বলে জানান এবিভিপি প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর হালদার।
এদিকে সেমিস্টারের ফলাফল নিয়ে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তালবাহানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার ওমেন্স কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের ছাত্রীরা ।বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ডক্টর শ্যামল দাসের কুশপুতুল পুড়ানো হয়।



