বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ২৬শে এপ্রিল…… আমরা গর্ব করে বলি আমরা বাঙালি। এর পেছনে অনেক কারণও রয়েছে। এমনিতেই বাঙালিরা সব দিক দিয়ে এগিয়ে বাঙালিরা কৃষ্টি, সংস্কৃতি উৎসব এইসব জিনিসগুলোকে আঁকড়ে ধরে আছে বলেই বলা হয় বাঙ্গালীদের ১২ মাসে ১৩ পারবন। আর এই পার্বন গুলি করতে বাঙালিরা খুবই ভালোবাসে। তার মধ্যে প্রতি সময় এবং রীতু অনুযায়ী এই পার্বনগুলি ঘুরে ঘুরে আসে। তার মধ্যে এই সময়ে রয়েছে চৈত্র এবং বৈশাখ মাসে একটি পবিত্র পার্বণ চড়ক মেলা। এই চড়ক মালা আজ থেকে নয় আদিকাল থেকে শ্রদ্ধা নিষ্ঠা ও ভক্তির মাধ্যমে এই পূজা করা হয়ে থাকে। এই চড়ক পূজা করতে গিয়ে পুজোর সন্ন্যাসী সহ ওনার সহযোগীরা ভীষণভাবে নিয়ম-কানুন এর মধ্য দিয়ে থেকে তারপর এই চড়ক গাছের পুজো করা হয়।। এই চড়ক পূজাকে কেন্দ্র করে পূজার স্থলে অনেকেই রাধা কৃষ্ণ লীলা, মা কালীর নাচ শিব পার্বতীর নাচ সহ অনেক ধরনের নাচ গান হয়ে থাকে এই চড়ক মেলার প্রাঙ্গণে। এবং এই সব দৃশ্যগুলি দেখতে যেসব এলাকায় চড়ক মেলার আয়োজন করা হয় ঐসব এলাকার মানুষজন ছুটে আসে এই চড়ক মেলা দেখতে । এই চড়ক মেলার সবচেয়ে উপভোগকারী দৃশ্য হলো কালির নাচ এ নাচ সাধারণ নাচ নয়। অনেক নিয়ম নিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে কালিকে থাকতে হয়। চড়ক মেলার মাঠে কালিকে যখন আনা হয় তখন সেই চড়ক মেলার সন্ন্যাসী মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে মা কামাখ্যার পায়ের সিঁদুর মা কালীর কপালে লাগিয়ে দেন। এরপর ঢাকি সহ অন্যান্যরা মিলে ঢাকের বাদ্য এবং নৃত্যের তালে তালে মা কালী কে ছলায় অর্থাৎ কালিকে আস্তে আস্তে রাগিয়ে তুলে তাতে মা কালী কাঠের খড়গ হাতে নৃত্য করতে করতে খড়গ ঘুরিয়ে ঢাকের তালে তালে নৃত্য করতে থাকে। যদি একটা সময় কালির মাথা থেকে সেই সিঁদুরটি মুছে দেওয়া হয় না হলে উত্তেজিত হয়ে কাল এসেই বেরিগেট থেকে বেরিয়ে যাবে তখন তাকে ধরা খুবই মুশকিল হয়ে যায়। শুধু তাইনা সিঁদুর যখন মুছে ফেলা হয় তখন মা কালী একদম নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তখন সন্ন্যাসী তাকে জলের ছিটা দিয়ে মন্ত্র উচ্চারণ এর মাধ্যমে সুস্থ করে তুলে। যাইহোক এভাবে যখন কালি নাচ করছিল তখনই কোন কারণবশত কালির কাঠের দা টা কারোর গায়ে লেগে যায় তাতে সেই ব্যক্তি কালিকে ধরে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। তেমনি একটি ঘটনা ঘটলো গত বৃহস্পতিবার বৃন্দাবন ঘাট এলাকায় চরক পূজার আয়োজনে। যা হিন্দু রীতিনীতি সাথে অসৎ ব্যবহার করল সেখানকার
রাষ্ট্রবাদীদলে এক সিকি নেতা। সেই সিকি নেতার হাতেই চড়ক মেলার মা কালী আক্রান্ত হওয়াতে খোয়াই জুড়ে ছিঃ ছিঃ রব উঠেছে ধর্মের উপর আক্রমণ হওয়াতে।
ঘটনার বিবরণ জানা যায় গত বৃহস্পতিবার পূর্ব চেবরী বৃন্দাবন ঘাট এলাকায় ওয়াই সিসির মাঠে এক চড়ক মেলার আয়োজন করা হয়। এই মেলায় যে কমিটি রয়েছে তার অন্যতম সদস্য তথা রাষ্ট্রবাদী দলের নেতা আশীষ দেবনাথ এই মেলা প্রাঙ্গণের সন্ন্যাসীদের নির্ধারণ করার বাউন্ডারির ভিতরে তাকে রাখতে লাগবে এবং রাত্র বারোটার পর কালির নাচ করতে লাগবে বলে ঐ দিন এক হুলিয়া জারি করে ।অবশেষে তাকে রাখতে বাধ্য হয় কিন্তু সন্ন্যাসীরা যখন মা কালী নাচ শুরু করেন তখন সময় তার শরীরে মা কালীর খরগোটি নাচতে নাচতে হয়তো লেগে যায় বা সামান্য স্পর্শ হয় বলে রাতের বেলায় মতামত্ত অবস্থায় সেই রাষ্ট্রবাদী নেতা মা কালীকে মাটিতে ফেলে কিল,ঘুষি, লাথী মারতে থাকে। তাতে হতবাক হয়ে যায় মেলাতে আসা সকল দর্শনার্থীরা। তার কিছুক্ষণ পর এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে তার ভাই বিকাশ দেবনাথ সহ আরও কিছু সাঙ্গপাঙ্গ দের নিয়ে এস চড়ক গাছের নিচে থাকা মা কালী রূপ ধারণ কারি ব্যক্তিকে আবারও মাটিতে ফেলে প্রচন্ড ভাবে মার ধর করতে থাকে। তাদের এই মারধোর দেখে সেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীরা ভয়ে এই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। অবশেষ সন্ন্যাসীরা প্রান ভয়ে সেই জায়গা থেকে পালিয়ে আসেন। এই ঘটনায় আমাদের হিন্দু শাস্ত্রের সনাতনী মানুষদের মধ্যে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগে ঐ এলাকায় অনেক অপরাধের ঘটনায় সাথে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে ।চড়ক মেলায় বিশেষ করে হিন্দু সনাতনী মা ,মাসিরা ভক্তি শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে এই মেলা দর্শন করে এবং উপভোগ করে। সনাতনী মানুষদের চড়ক মেলা তাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি উৎসব। কিন্তু বৃন্দাবন ঘাট এই মেলা কে কেন্দ্র করে খোয়াই জুড়ে ছিঃ ছিঃ রব উঠেছে। অতি সত্তর প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে ঐ ব্যক্তিও তার সাঙ্গপাঙ্গদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির প্রদান করার জন্য সনাতনী মানুষদের মধ্য থেকে আওয়াজ উঠছে এবং তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য প্রশাসনের যেন স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেন সেই আবেদন করছেন সনাতনীরা।



