Thursday, February 5, 2026
বাড়িখবররাজ্যস্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, দক্ষতা ও জনমুখী প্রশাসনই আধুনিক শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি: মুখ্যমন্ত্রী

স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, দক্ষতা ও জনমুখী প্রশাসনই আধুনিক শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি: মুখ্যমন্ত্রী

সুশাসন মানে শুধু সরকার পরিচালনা নয় বরং প্রতিটি নাগরিকের জীবনকে উন্নত করা। স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, দক্ষতা ও জনমুখী প্রশাসনই আধুনিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি। ছোট রাজ্য ও প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবন ও সুশাসনের মাধ্যমে জাতীয় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। বর্তমান রাজ্য সরকার সেই ভাবনাকেই পাথেয় করে রাজ্যের উন্নতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। আজ হোটেল পোলো টাওয়ার্সে নীতি আয়োগের স্টেট সাপোর্ট মিশনের (এসএসএম) অধীনে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নিয়ে আয়োজিত ৩য় আঞ্চলিক কর্মশালার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। জাতীয় পর্যায়ের কর্মশালার এই আয়োজনে নীতি আয়োগের সঙ্গে অংশীদারিত্বে রয়েছে ত্রিপুরা সরকার এবং ত্রিপুরা ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমেশন (টি.আই.এফ.টি.)।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্ন কোনও পদক্ষেপ নয় বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই হলো প্রকৃত উন্নয়নের চাবিকাঠি। এই লক্ষ্যেই রাজ্যে সুশাসন দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় নীতি আয়োগের নির্দেশনায় গড়ে তোলা হয়েছে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমেশন (টি.আইএফ.টি.)। যা বর্তমানে দেশের প্রথম সারির ৭টি রাজ্য প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে রাজ্যের এক শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, স্টেট সার্পোট মিশন ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে অংশীদারিত্বভিত্তিক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নীতি আয়োগ রাজ্যগুলিকে তাদের স্টেট ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমেশন (এস.আই.টি.) শক্তিশালী করার সুযোগ প্রদান করেছে। টি.আই.এফ.টি. ইতিমধ্যে রাজ্যের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রণয়নের ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কাজ করে চলছে সফলভাবে। রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা বর্তমানে দেশের একমাত্র রাজ্য যেখানে মন্ত্রিসভা থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত পেপারলেস প্রশাসন কার্যকর রয়েছে।

সামাজিক কল্যাণমূলক ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সরাসরি বেনিফিসিয়ারি ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ডিজিটালি প্রদান করা হচ্ছে। ‘ডিস্ট্রিক্ট গুড গভর্ন্যান্স ইনডেক্স’ চালু করা হয়েছে। ইজ অব ডুইং বিজনেসের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। নিয়মকানুন সময়োপযোগী করে তোলা এবং তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিহার সরকার ত্রিপুরার এই মডেলটি শিখতে আধিকারিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে প্রকাশিত ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬-এ ত্রিপুরার সুশাসন এবং টি.আই.এফ.টি.-র কাজের বিশেষ প্রশংসা করা হয়েছে। রাজ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে ত্রিপুরার অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্ষদের (এন.ই.সি.) মাধ্যমে তাঁকে এই অঞ্চলের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো ও লজিস্টিক্স বিষয়ক উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্ক ফোর্সের আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নতির স্বীকৃতি স্বরূপ গত ৮ বছরে রাজ্য ৩৪৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক পুরস্কার অর্জনে সমর্থ হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে সুশাসনের স্বীকৃতি।

মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারত’ ২০৪৭ গড়ার ক্ষেত্রে ত্রিপুরাও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তিনি আরও বলেন, সুশাসন কোনও লক্ষ্য নয় বরং একটি নিরন্তর জনকল্যাণমূলক সেবাযাত্রা। এই তৃতীয় আঞ্চলিক কর্মশালার মাধ্যমে পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি একে অপরের অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এবং কর্মশালার পূর্ণ সফলতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে রাজ্যের সুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা বলেন, নীতি আয়োগের স্টেট সাপোর্ট মিশনের অধীনে আয়োজিত এই আঞ্চলিক কর্মশালা ত্রিপুরার জন্য একটি মাইলফলক। এটি ত্রিপুরার উন্নয়ন যাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বর্তমানে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি অগ্রণী উন্নয়নমূলক রাজ্য হিসেবে গড়ে উঠতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ত্রিপুরার উন্নয়ন আজ সারা দেশে চর্চিত। দেশের উন্নয়নের চিত্র রাজ্যের অ্যাসপিরেশনাল জেলা এবং ব্লকগুলিতে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সুশাসন দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, রাজ্যের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। রাজ্যের এবং জনগণের উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করতে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমেশন গঠন করা হয়েছে। উন্নয়নমূলক ধ্যানধারণা, আধুনিক পরিকল্পনা, জনকল্যাণমূলক প্রশাসন এবং ইনোভেশন নির্ভর প্রশাসনিক কাজকর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে টি.আই.এফ.টি.-র সূচনা। তিনি টি.আই.এফ.টি.-র সার্বিক কর্মপ্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্টেট সাপোর্ট মিশন, নীতি আয়োগের যুগ্ম সচিব ও মিশন অধিকর্তা কে. এস. রেজিমন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নীতি আয়োগের অতিরিক্ত সচিব রোহিত কুমার (ভার্চুয়ালি), উত্তরাখন্ড সরকারের সেতু আয়োগের সহ-সভাপতি রাজশেখর যোশী, ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন নীতি আয়োগের পাবলিক পলিসি বিশেষজ্ঞ ড. অমৃত পাল কৌর।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

1 + 10 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য