ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের উদ্যোগে আজ ৪৮তম ককবরক দিবস উদযাপন করা হয়। রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে এই উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য ককবরক ভাষা উন্নয়ন উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান ডা. অতুল দেববর্মা এবং ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ককবরক ভাষা উন্নয়ন উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান ডা. অতুল দেববর্মা বলেন, মাতৃভাষা আমাদের চেতনার পরম আশ্রয়। এই দিনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের। ককবরক ভাষার ইতিহাস আমাদের জনজাতির ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ককবরক ভাষার উৎপত্তি ঠিক কবে হয়েছিল, তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবে আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন থেকে এই ত্রিপুরা রাজ্যে এবং ভারতবর্ষের এই অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছেন তখন থেকেই এই ভাষার সৃষ্টি। আমাদের জাতিসত্তার বিকাশের সাথে সাথেই এই ভাষারও জন্ম হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ১৯ জানুয়ারি ককবরক ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করেই আমরা প্রতি বছর ককবরক দিবস পালন করি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া ককবরক ভাষা চর্চা ও প্রসার ঘটানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। ককবরক ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন। এদিনের অনুষ্ঠানে চারটি ককবরক বইয়ের মলাট উন্মোচন করা হয়। তাছাড়া ককবরক ভাষা শিক্ষায় ৬ জন শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাছাড়াও অতিথিগণ স্মরণিকা ‘য়াকপাই’ এবং সাহিত্য ম্যাগাজিন ‘খুমপুই’-এর আবরন উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার এবং ককবরক ও অন্যান্য সংখালঘু ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দহরি জমাতিয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে পুনরায় রবীন্দ্রভবন প্রাঙ্গণেই এসে সমাপ্ত হয়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন সি শর্মা, বুনিয়াদি শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা রাজীব দত্ত, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা প্রমুখ।



