ধলাই জেলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধীনে পরিচালিত Tripura Rural Economic Growth and Service Delivery Project (TRESP) ইতিমধ্যেই গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জীবনে এক উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে তাঁদের আয় বৃদ্ধি এবং জীবিকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হচ্ছে। প্রোডিউসার গ্রুপগুলো ধীরে ধীরে ব্যবসামুখী হয়ে উঠছে প্রকল্পের সুসংগঠিত সহায়তার মাধ্যমে।
জেলার মনু আর.ডি ব্লকের ময়নামা এলাকার বাসিন্দা রত্না ত্রিপুরার সাফল্যের গল্প এই পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পূর্বে সীমিত জ্ঞান ও সম্পদের অভাবে মাছ চাষ থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ১২,০০০ টাকা। TRESP-এর আওতায় ফিশারি প্রোডিউসার গ্রুপে যুক্ত হয়ে তিনি বৈজ্ঞানিক মাছ চাষ, উন্নত মানের পোনা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেন। পাশাপাশি, তিনি ২০,০০০ টাকার একটি স্বল্পসুদে ঋণ গ্রহণ করেন, যার উপর মাত্র ৩% সুদ ধার্য—যা সাধারণত কোনো ব্যাংক বা অন্যান্য প্রকল্পে এত কম হারে পাওয়া যায় না। এই ঋণের যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মিত পরিশোধ (recovery) এর মাধ্যমে তিনি আর্থিকভাবে আরও আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছেন।
প্রযুক্তিগত সহায়তা, পুকুর সংস্কার, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং পলিকালচার পদ্ধতির প্রয়োগের ফলে তাঁর মাছ উৎপাদন ১২০ কেজি থেকে বেড়ে বছরে ৪০০ কেজিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি চক্রে তাঁর মোট আয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮৫,০০০ টাকা, যেখানে উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৮,০০০ টাকা এবং নিট আয় প্রায় ৪৭,০০০ টাকা। এর ফলে তাঁর সামগ্রিক বার্ষিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
TRESP প্রকল্পের এই সাফল্য শুধুমাত্র আয় বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নেতৃত্ব এবং সমবায় ভিত্তিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেছে। রত্না ত্রিপুরার মতো মহিলারা আজ নিজেদের গ্রামে রোল মডেল হয়ে উঠেছেন এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছেন এই উদ্যোগে যুক্ত হতে।
সামগ্রিকভাবে, TRESP প্রকল্প ধলাই জেলার দরিদ্র জনজাতি জনগোষ্ঠীর জীবনে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। স্বল্পসুদে ঋণ, সহজ শর্তে ঋণ পরিশোধের সুযোগ ,দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষন এবং বাজার সংযোগের মাধ্যমে এই প্রকল্প টেকসই উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।



