Monday, March 31, 2025
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদ খোয়াই পদ্মবিল এলাকায় পালিত হলো কুমারী, মধুতী রূপশ্রীর ৭৭ তম শহীদান দিবস।

 খোয়াই পদ্মবিল এলাকায় পালিত হলো কুমারী, মধুতী রূপশ্রীর ৭৭ তম শহীদান দিবস।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ২৯শে মার্চ…….. গণতন্ত্র পুণরুদ্বার , আইনের শাসন পুণঃপ্রতিষ্ঠা ও সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রাম শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন সি পি আই এম এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা জি এম পি  এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নরেশ জমাতিয়া।শুক্রবার বিকেলে খোয়াইয়ের পদ্মবিল এলাকায় তিন বীরাঙ্গনার শহীদান দিবসের জমায়েতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার দিনটি ছিল পদ্মবিলের শহীদান দিবস।ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজরিত ১৪ই চৈত্র।এই দিনেই রাজতন্ত্র অবসান ও তিতুন প্রথা উচ্ছেদের সংগ্রামে শহীদের মৃত্যু বরণ করেছিলেন কুমারী, মধুতী ও রূপশ্রী।এবার ছিল তাদের ৭৭তম শহীদান দিবস।শুক্রবার বিকেলে শহীদভূমি পদ্মবিলে হয় শহীদান দিবসের জমায়েত।।জি এম পি এর বিভাগীয় কমিটি ও সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতির মহকুমা কমিটি ছিল এই কর্মসূচীর আয়োজক।

পদ্মবিলের শহীদ স্মৃতিসৌধে এই দিন অগণিত মানুষ জানিয়েছেন  শ্রদ্ধা।উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য সদস্যারাও।প্রথমেই শহীদ স্মৃতিসৌধে প্রদীপ প্রজ্বলন করে দেওয়া হয়।এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান সি পি আই এম এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা জি এম পি  র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নরেশ জমাতিয়া। এছাড়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি রঞ্জিত দেববর্মা সহ সম্পাদক পদ্ম কুমার দেববর্মা, বিভাগীয় সম্পাদক সুবোধ দেববর্মা, সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতির জেলা সম্পাদিকা গায়েত্রী দত্ত, মহকুমা সম্পাদিকা গৌরী পাল , মহকুমা সভানেত্রী শুভলক্ষী দেববর্মা , গণ আন্দোলনের নেতা নির্মল বিশ্বাস , পলাশ ভৌমিক , আলয় রায় সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও শহীদ পরিবারের সদস্য সদস্যারা।মৌনব্রতের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করেন সবাই। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিমণ্ডলীতে ছিলেন বিশ্বরঞ্জন দেববর্মা ও গৌরী পাল।বক্তব্য রাখেন নরেশ জমাতিয়া, রঞ্জিত দেববর্মা, পদ্ধ কুমার দেববর্মা ও গায়েত্রী দত্ত।এই দিন শহীদভূমি পদ্মবিলে শুরু হয় তিন বীরাঙ্গনার স্মৃতিতে দুইদিন ব্যাপী মেলা।জাতি উপজাতি অংশের মানুষের সমাগম ঘটে এই মেলায়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেশ জমাতিয়া বলেন, কুমারী মধুতী রূপশ্রীর শহীদান শুধু রাজতন্ত্র অবসান আর তিতুন প্রথার উচ্ছেদের সংগ্রামে আত্মবিসর্জন নয়।তারা মুক্তি আন্দোলনের ও শহীদ।তিন বীরাঙ্গনার আত্মবলিদান মুক্তিকামী মানুষের আগামী দিনের আন্দোলনকে পথ দেখাবে।শহীদভূমি পদ্মবিল এক গর্বিত ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে।পৃথিবীর দেশে দেশে এখনো চলছে মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলন।কুমারী, মধুতী ও রূপশ্রী এই চলমান মুক্তি আন্দোলনের দিশারী।গণতন্ত্র পুণরুদ্বার, আইনের শাসন পুণঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে আমাদের রাজ্যে।তিন বীরাঙ্গনার অমর শহীদান আগামী দিনেও অমলিন রাখতে হবে।শহীদের রক্ত ঋণ শোধ করতে হবে আমাদের।সমাজ পরিবর্তনের লড়াই জোরদার করতে হবে।নরেশ জমাতিয়া এও বলেন রাজার শাসনে প্রজারা শোষিত ও নির্য্যাতিত ছিল।শোষিত মানুষকে দিয়ে বেগার খাটানো হতো।যার নাম ছিল তিতুন প্রথা।কিন্তু মজুরি মিলতো না গরীব মানুষের।তখন থেকেই কমিউনিস্টদের আন্দোলন দমণ পীড়ন করা হতো।জি এম পি কে দমণ পীড়ন করা শুরু হয়।রাজতন্ত্রের সময় স্কুল ছিল না।রাস্তাঘাট ছিল না।দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল উপজাতি জনসমাজ।কুসংস্কার ও সংকীর্ণতা আর অন্ধ বিশ্বাসে আবদ্ধ ছিল তৎকালীন জনজীবন। তখনই দশরথ, সুধন্য, হেমন্ত, অঘোরের নেতৃত্বে শুরু হয় জনশিক্ষা আন্দোলনে মধ্যযুগীয় বর্বরতার অবসানের লড়াই শুরু হয়।

তিনি  বলেন কুমারী, মধুতী ও রূপশ্রীর রক্তের বিনিময়ে রাজ্যে আসে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার।গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিধি পরিসর পরিব্যাপ্ত হয় তিন বীরাঙ্গনার শহীদানের মধ্য দিয়ে। তিনি এও বলেন আমাদেরকে সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে অবিচল থাকতে হবে।কুমারী মধুতী, রূপশ্রীর আত্মবলিদান আমাদেরকে সমাজ বদলের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছে।চীন দেশ ছিল ভারত থেকেও  পিছিয়ে পড়া।কিন্তু সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে চীন  একসময় পৃথিবীর মধ্যে এক বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়।আজকে চীনদেশ আমেরিকাকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।ভিয়েতনাম ও সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়ার কথা আমাদের জানা।হো চি মিন , মাও সে তুঙের  জীবনাদর্শ আমাদের জানা।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণে গিয়েছিলেন।এরপর তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে এ তো আমার কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা।মুক্তির আন্দোলনে এক নবদিগন্তের সূচনা করেছিল সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।রবীন্দ্রনাথ সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়া সফর করে বলেছিলেন যে আমি অভিভূত।নরেশ জমাতিয়া বলেন আজকে শপথ নেওয়ার দিন আমাদের।শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে আমাদের। কুমারী মধুতী রূপশ্রীর স্বপ্ন আমাদের সার্থক করে তুলতে হবে।তারাও সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এই স্বপ্ন আমাদেরকে পূরণ করতে হবে।মনে রাখতে হবে কুমারী মধুতী, রূপশ্রী আমাদেরকে সব রকমের অন্যায় অত্যাচার অবিচার শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করার দায়িত্ব অর্পণ করে গেছেন।এই দিন পদ্মবিলের শহীদভূমির জমায়েত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপনের কর্মসূচীর আগে সি পি আই এম এর খোয়াই মহকুমা কার্য্যালয়েও হয় তিন বীরাঙ্গনার শহীদান দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচী।এখানে সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতির পতাকা উত্তোলন করেন নারীনেত্রী শুক্লা সেনগুপ্তা।শহীদবেদীতে শ্রদ্ধা জানান নরেশ জমাতিয়া, নির্মল বিশ্বাস  , পদ্ম কুমার দেববর্মা, পলাশ ভৌমিক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা। এছাড়াও এই দিন খোয়াই মহকুমার বিভিন্ন অঞ্চল এলাকায়ও যথাযোগ্য মর্য্যাদার সাথে পালিত হয়েছে কুমারী মধুতী রূপশ্রীর ৭৭তম শহীদান দিবস।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

twelve − 12 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য