মণিপুরী সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো শ্রীশ্রী গোপাল জি মণিপুরী কলাক্ষেত্রের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই উপলক্ষে সোমবার রানীরবাজারের বৃদ্ধিনগর মণিপুরী এলাকায় আয়োজন করা হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে মণিপুরী সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা কালচারাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য সেনাম দীপক কুমার সিংহ, শিলংয়ের সমাজসেবী রাজেশ ভুভী এবং অমর ঘোষ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের বিশিষ্ট মৃদঙ্গ বাদক এ. রঞ্জিত শর্মা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাজ্যের দুই বিশিষ্ট মৃদঙ্গ বাদককে সম্মাননা প্রদান। তাঁদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দিয়ে মণিপুরী সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিধায়ক রতন চক্রবর্তী মণিপুরী সমাজের সাংস্কৃতিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগেও যেভাবে মণিপুরী সমাজ নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভারতবর্ষের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরম্পরা রক্ষায় এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। শ্রীশ্রী গোপাল জি মণিপুরী কলাক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং মণিপুরী সমাজের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে তাঁর তহবিল থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন বিধায়ক। আগামী দিনেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে তিনি উপস্থিত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত অতিথি, শিল্পী, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সকল আয়োজককে ধন্যবাদ জানানো হয়। শ্রীশ্রী গোপাল জি মণিপুরী কলাক্ষেত্রের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান মণিপুরী সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর বার্তা বহন করে।



