শারদোৎসবের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। চারদিকে যখন উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখনও নিয়োগের অপেক্ষায় দিন গুনছেন রাজ্যের একাংশের বেকার যুবক-যুবতী। সরকারি চাকরির দাবিতে আগরতলায় অব্যাহত রয়েছে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি। কখনও টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগের দাবি, আবার কখনও পরীক্ষার ফল প্রকাশের দাবিতে পথে নামছেন চাকরিপ্রার্থীরা। বুধবার ফের একই ছবি দেখা গেল আগরতলার শিক্ষা ভবন চত্বরে। ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত STGT পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে এদিন সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে ডেপুটেশন দিতে আসেন চাকরিপ্রার্থীরা। তবে চেয়ারম্যানকে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেদের দাবি ও ক্ষোভ তুলে ধরেন তাঁরা। চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন আগে পরীক্ষা দিয়েও তাঁরা এখনও ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত না থাকায় তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহার কাছে আবেদন জানান তাঁরা।
তাঁদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বোর্ডকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বছরের পর বছর অপেক্ষা না করিয়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান চাকরিপ্রার্থীরা। এদিন নিজেদের দাবি সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে গিয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং অনিশ্চয়তার কথা বলতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের এই আবেগঘন মুহূর্ত ফের সামনে নিয়ে এল সরকারি চাকরির আশায় অপেক্ষারত বেকার যুবক-যুবতীদের উদ্বেগের চিত্র। উৎসবের আবহে যখন সাধারণ মানুষ শারদোৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন STGT পরীক্ষার্থীদের একাংশের কাছে এখনও প্রধান চিন্তা চাকরির ভবিষ্যৎ। তাঁদের আবেদন, আর বিলম্ব না করে ২০২২ সালের পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং নিয়োগ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক রাজ্য সরকার।



