অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে আমতলী থানার পুলিশের হাতে আটক হলেন দুই বাংলাদেশি মহিলা ও এক শিশু। শনিবার সকালে আগরতলা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি হোটেলের সামনে থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাঁদের নরসিংগড় হোমে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আমতলী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ইন্সপেক্টর রানা চ্যাটার্জি জানান, শনিবার সকালে সাব-ইন্সপেক্টর রুমা জমাতিয়া-সহ পুলিশের একটি দল রুটিন টহলদারিতে বেরিয়েছিল। সেই সময় আগরতলা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দুই মহিলা ও এক শিশুকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পান পুলিশকর্মীরা। এরপর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তাঁদের আটক করে আমতলী থানায় নিয়ে আসা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে, সূত্রের দাবি, এর আগেও হায়দরাবাদ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ওই দুই মহিলা ও শিশুটি। পরে তাঁদের পুশব্যাক প্রক্রিয়ার জন্য ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ, পুশব্যাকের পর পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে রেলপথে হায়দরাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। তবে এই সংক্রান্ত তথ্য এখনও পর্যন্ত সূত্রের দাবি হিসেবেই উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার পর ফের সামনে এসেছে ত্রিপুরার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ। সীমান্তের কিছু অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া না থাকার সুযোগ নিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশকারীদের দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছে দিতে দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে। শুধু সীমান্ত এলাকাই নয়, আগরতলা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কিছু গাড়িচালকের কথিত দালাল ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে এই ঘটনায় কোনও দালালচক্রের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি। বর্তমানে আটক দুই মহিলা ও শিশুকে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের পুনরায় বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। গোটা ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।



