এডিসি এলাকার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এরই মধ্যে নিজেদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং ভোটের রণকৌশল চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ত্রিপুরায় এলেন বিজেপির দুই সর্বভারতীয় শীর্ষ নেতা। মঙ্গলবার আগরতলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠন সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কো-অর্ডিনেটর তথা সাংসদ সম্বিত পাত্র। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান বিজেপির প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রদেশ নেতৃত্ব বিপিন দেববর্মা, বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাসসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। এডিসি এলাকার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। স্থানীয় প্রশাসন ও এডিসি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলিও বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রিপুরা সফরে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেবেন বিএল সন্তোষ ও সম্বিত পাত্র। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এডিসি এলাকায় দলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির প্রস্তুতি নিয়ে প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন তাঁরা। বিশেষ করে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও শক্তির জায়গাগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণ করা হতে পারে বৈঠকে। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচার, প্রার্থী বাছাই এবং তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে শুধু সাংগঠনিক বৈঠকই নয়, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে আসন সমঝোতা হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এডিসি এলাকায় দুই দলের রাজনৈতিক সমীকরণকে সামনে রেখে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে বিজেপির দুই কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতার ত্রিপুরা সফরকে তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের বৈঠকের পর দলের নির্বাচনী কৌশলে কী পরিবর্তন আসে, সেদিকেও নজর রয়েছে। অন্যদিকে, তিপ্রা মথার সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিও এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ত্রিপুরা সফর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।



