আজ ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে গান্ধীঘাটস্থিত শহীদ বেদিতে মাল্যদান করে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ। সেই সময় তাঁর সাথে ছিলেন কর্পোরেটর তুষার কান্তি ভট্টাচার্য। এ উপলক্ষ্যে সর্বধর্ম সম্মেলন, গীতা, কোরান, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠ করা হয় এবং দেশাত্মবোধক সংগীত গাওয়া হয়।
পরে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ আগরতলার লিচুবাগানস্থিত এলবার্ট এক্কা ওয়ার মেমোরিয়্যাল পার্কে পুস্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে সেনাবাহিনীর পদস্থ আধিকারিক, জওয়ানগণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা অর্জিত হলেও ২৬শে জানুয়ারি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রকৃত ভিত্তি স্থাপিত হয়। এই দিনেই সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বাস্তব রূপায়ণ ঘটে। প্রজাতন্ত্রের মূল লক্ষ্য সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠান শেষে টিএসআর ১১ নম্বর ব্যাটেলিয়ান ও আর্মি শিখ রেজিমেন্টের জওয়ানদের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মন্ত্রী। পরিশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটির উদযাপন সমাপ্ত হয়।
প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে সচিবালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রজাতন্ত্র দিবস জনগণের ক্ষমতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক। সংবিধানের মাধ্যমে জনগণই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ শক্তির অধিকারী। বিগত কয়েক বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুযোগ্য নেতৃত্বে ভারত আজ উন্নয়নের নতুন দিশায় দুরন্ত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী, সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের সচিব তাপস রায় সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিব ও আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ উপলক্ষ্যে ত্রিপুরা বিধানসভা প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল। বিধানসভার নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ত্রিপুরা পুলিশের জওয়ানগণ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন ও উপাধ্যক্ষকে অভিবাদন জানান। পতাকা উত্তোলনের পর উপাধ্যক্ষ বলেন, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ভারত বিশ্ব মানচিত্রে একটি সার্বভৌম প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই দিনটি কেবলমাত্র সংবিধানের কার্যকারিতা শুরুর স্মরণে নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে যেসব মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন। অনুষ্ঠানে বিধানসভার সচিব অমিয় কান্তি নাথ সহ বিধানসভার আধিকারিক এবং কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন।



