জনজাতিদের কৃষ্টি সংস্কৃতি হলো রাজ্যের অলংকার। বর্তমান সরকার রাজ্যে প্রতিটি জনজাতি গোষ্ঠী এবং উপগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আজ জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক জনজাতি লোকনৃত্য প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমা থেকে আগত জনজাতি সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের শালচাদর পরিয়ে সংবর্ধনা জানান এবং জনজাতি লোকনৃত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থানাধিকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও জনজাতিরা অবহেলিত ছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রথম কেন্দ্রে জনজাতিদের প্রকৃত উন্নয়নের লক্ষ্যে আলাদা দপ্তর বা মন্ত্রক গঠন করে। বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রতিটি রাজ্যের জনজাতিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নানা প্রকল্প রূপায়ণ করছে। জনজাতি স্বাধীনতা সংগ্রামী বিরসা মুন্ডাকে বর্তমান সরকারই সঠিক সম্মান জানিয়েছে। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু একজন জনজাতি মহিলা। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকারের জনজাতি দরদি হওয়ার প্রমাণ মেলে। তিনি বলেন, আধুনিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি নিজেদের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে রক্ষায় জনজাতি যুব সম্প্রদায়কে সব সময় সজাগ থাকতে হবে। নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়তে জনজাতি যুবদের আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত রাজ্যে ৮ জন জনজাতি বিশিষ্ট ব্যক্তি পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন। যা অতীতে কখনও কল্পনাও করা যায়নি। সবকা সাথ সবকা বিকাশের অর্থই হলো জাতি, জনজাতিদের যুব, মহিলা, কৃষক সহ প্রতিটি অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত উন্নয়নের ধারাকে প্রবাহিত করা। বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যের রাজন্য ইতিহাস জড়িত স্মৃতিগুলি পুনরুদ্ধার করে সেগুলি পুনর্নির্মাণ করছে। কারণ রাজন্য ইতিহাসের সাথে জনজাতিদের ইতিহাসও জড়িত আছে। রাজ্যের নদী, পাহাড় সহ বিভিন্ন স্থানের নামকে ককবরকে রাখা হচ্ছে। রাজ্যে জনজাতি এলাকাগুলিতে শান্তি স্থাপনে এন.এল.এফ.টি, এ.টি.টি.এফ.-এর সাথে চুক্তি করে তাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। রাজ্যের জনজাতিদের তৈরি রিসা এবং পাছড়া জি.আই, ট্যাগ পেয়ে সারা ভারতবর্ষে পরিচিতি লাভ করেছে। রাজ্যের জনজাতি এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি বিকাশ যোজনা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজ্যের জনজাতি এলাকাগুলিতে বিভিন্ন উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন বৃত্তি, নতুন হোস্টেল, নতুন বিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে। জনজাতি এলাকায় বিভিন্ন ছাত্র, ছাত্রী আবাসগুলির সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই ১৪০ জন হোস্টেল ওয়ার্ডেন নিযুক্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, সরকার রাজ্যের জনজাতিদের উন্নয়নে বাস্তব সম্মতভাবে কাজ করে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যের জনজাতি এলাকাগুলিতে যেখানে আগে রাস্তাঘাট, পানীয়জল, বিদ্যুৎ পরিষেবা ছিল না সেখানে আজ এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জনজাতিদের জীবনযাত্রার দ্রুত উন্নয়নে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে। সেই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে প্রত্যেককে সহযোগিতা করতে হবে।
এছাড়া ভাষণ রাখতে গিয়ে মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা বলেন, রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে রূপায়ণের জন্য রাজ্য বিভিন্ন পুরস্কার পাচ্ছে। ভালো কাজের জন্য ত্রিপুরা দেশের সর্বত্র পরিচিতি পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা শুভাশিস দাস। স্বাগত ভাষণ রাখেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব ড. কে. শশীকুমার।



