নাগরিক পরিষেবা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। মানুষের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে সরকার প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন আধুনিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলছে। যা জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রভাব বিস্তার করছে। আজ কামান চৌমুহনিতে টুডার মাধ্যমে তৈরি প্রথম আবাসন প্রকল্প বিবেকানন্দ টাউনশিপ প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রতীকী হিসেবে তিনজন গ্রাহকের হাতে ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত অতিথিগণ। উল্লেখ্য, বিবেকানন্দ টাউনশিপে মোট ৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে। এজন্য ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। প্রায় এক একর জায়গায় তিনটি জি+৪ টাওয়ার রয়েছে এবং ৩টি ব্লক রয়েছে। ৩টি টাইপের ফ্ল্যাট রয়েছে এই টাউনশিপে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগরিক পরিষেবার কথা মাথায় রেখে খুবই সুলভমূল্যে ফ্ল্যাটগুলি নির্মাণ করা হয়েছে গ্রাহকদের জন্য। মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে সর্বপ্রকার আধুনিক ব্যবস্থাও রয়েছে। নাগরিক চাহিদা ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ভূমিকম্প নিরোধক প্রযুক্তি সহ স্বচ্ছ ও গুণমান সম্পন্ন পরিকাঠামোর প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, টুডার উদ্দেশ্য হলো পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের মাধ্যমে শহরে বসবাসকারী পরিবারের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর নিরাপদ বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করা। রাজ্যের সাধারণ মানুষ আজ সুলভ মূল্যে নিজের ফ্ল্যাটে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারছেন। সবই সম্ভবপর হচ্ছে রাজ্যের বর্তমান সরকারের ইতিবাচক উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য। রাজ্য সরকার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ আয় সম্পন্ন পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও আধুনিক গৃহ নির্মাণের উপর জোর দিয়েছে। টুডার মাধ্যমে একাধিক টাউনশিপ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বিবেকানন্দ টাউনশিপ অন্যতম। এছাড়াও ভগৎ সিং যুব আবাস সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি টাউনশিপ প্রকল্পে ২১৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলছে। এডিবির আর্থিক সহায়তায় ত্রিপুরা আরবান অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টটি (টি.ইউ.টি.ডি.পি.) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজ্যের ১২টি পুর সংস্থা এলাকায় জল সরবরাহ, সড়ক নির্মাণ, পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা নির্মাণ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ২০টি শহর এলাকায় জি.আই.এস. মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার কাজ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্যাটেলাইট টাউন ডেভেলপমেন্ট এবং মুখ্যমন্ত্রী নগর উন্নয়ন এই দুটি প্রকল্পে রাজ্যে বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এবছরের এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ত্রিপুরা ল্যান্ড পুলিং অ্যান্ড প্লট রি-কনস্টিটিউশন পলিসি ঘোষণা করা হয়েছে। যার উদ্দেশ্য হলো বর্ধিত পুর এলাকাসমূহতে পরিকল্পিতভাবে নগর উন্নয়নের কাজ করা। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (শহর)-র শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার ১৭২টি গৃহ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তারমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৪ হাজার ২৬৭টি গৃহের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশন (শহর)-এর আওতায় ২৩ হাজার ৮২৩টি ব্যক্তিগত পারিবারিক শৌচাগার এবং ১ হাজার ২৯৫টি গণশৌচাগার নির্মিত হয়েছে রাজ্যের ২০টি পুর এলাকায়। আগরতলার কাটাখাল, কালাপানিয়া খাল এবং রাজ্যের সমস্ত পুর এলাকার নর্দমাসমূহের অপরিষ্কার জল পরিষ্কার করার জন্য সিওয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টগুলির নির্মাণ কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা তার বক্তব্যে রাজ্য সরকারের আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিষয়ে আলোকপাত করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা শহর সহ রাজ্যের সার্বিক চিত্র আজ পরিবর্তনশীল। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মানুষ আজ উপলব্ধি করতে পারছেন। মুখ্যমন্ত্রী বিবেকানন্দ টাউনশিপের নতুন আবাসিকদের অভিনন্দন জানান এবং যত্ন সহ ফ্ল্যাট রক্ষণাবেক্ষণ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টুডার কমিশনার মিহির কান্তি গোপ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র বিধায়ক দীপক মজুমদার, নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং। উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেটর তথা আগরতলা পুরনিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারপার্সন রত্না দত্ত, নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মেঘা জৈন প্রমুখ।