ভগবানের কাছ থেকে পাওয়া এনার্জি বা চার্জ আমাদের বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এবং আমরা আমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা নিজেদের চিনতে পারি ।শুক্রবার রাজধানীর মহানাম অঙ্গন আশ্রম সংলগ্ন পাড়া সুন্দরী কালী মন্দিরের শুভ উদ্বোধন করে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা।
পুনরায় স্বমহিমায় স্থাপিত হল রাজধানীর কাসারি পট্টি এলাকার মহানাম অঙ্গন আশ্রম সংলগ্ন শতবর্ষ প্রাচীন পাড়া সুন্দরী কালী মন্দির। পূর্বতন প্রশাসনের চূড়ান্ত খামখেয়ালিপানায় রাজন্য আমলের এই মন্দির মাটির গর্ভে চলে যেতে বসেছিল। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি মেনে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই মন্দিরটিকে ভাঙচুর না করেই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাটি থেকে প্রায় আট ফুট উঁচুতে পুনস্থাপনের ব্যবস্থা করে আগরতলা পৌর নিগম কর্তৃপক্ষ ।শুক্রবার এই মন্দিরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা ।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পৌর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, স্থানীয় কর্পোরেটর রত্না দত্ত, আগরতলা পৌর নিগমের কমিশনার ডি কে চাকমা সহ অন্যান্যরা। পাড়া সুন্দরী কালী মন্দিরের উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্দিরের প্রায় ১৭৫ বছর আগের ইতিহাস তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী ।তিনি জানান, সেই সময় রাজ্যের রাজা ছিলেন কৃষ্ণ কিশোর মানিক্য ।তখন বহিরাজ্য থেকে প্রভুপাদ শ্রী বিপিনবিহারী গোস্বামী ত্রিপুরায় এসেছিলেন ।একই সময়ে মহারাজার পুত্র ঈশান চন্দ্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ।প্রভুপাদ তখন সেবা করে মহারাজা কৃষ্ণ কিশোর মানিক্যের পুত্র ঈশান চন্দ্রকে সুস্থ করে তোলেন ।পরবর্তী সময়ে ঈশান চন্দ্র ত্রিপুরার মহারাজ হন ।১৮ ৪৯ সালে মহারাজা ঈশান চন্দ্র মানিক্য প্রভুপাদ শ্রী বিপিন বিহারী গোস্বামীকে গুরু রূপে বরণ করে নেন এবং তার রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন ।গুরুর সম্মানার্থে ঈশান চন্দ্র এই স্থানটি গুরুর বংশধরদের শ্মশান ঘাট হিসেবে ব্যবহারের জন্য দান করেন। এরপরে এই স্থানে কালী মন্দির স্থাপন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান ,রাজন্য আমলের এই কালি মন্দিরটি প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ধীরে ধীরে মাটির গর্ভে চলে যেতে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মহানাম অঙ্গন আশ্রমে এক রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করতে এলে , এলাকাবাসী তার কাছে এই মন্দিরটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবী জানান ।এলাকাবাসীর ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে তিনি আগরতলা পৌর নিগমের মেয়র কে এই মন্দির সংংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বলেন ।এরপর আগরতলা পৌরনিগম কর্তৃপক্ষ এই মন্দিরটিকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মন্দিরের সৌন্দর্য অক্ষত রেখে মাটি থেকে প্রায় আট ফুট উঁচু স্থানে প্রতিষ্ঠা করে। এদিন বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান ,ভগবানের কাছ থেকে আমরা এনার্জি পাই ।তা আমাদের বেঁচে থাকার রসদ যোগায় ।সনাতন ধর্মে এই কথার উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, সনাতন ধর্ম আছে বলেই মোঘল এবং ইংরেজ শাসনের পরও ভারতবর্ষের সভ্যতা ইজিপ্ট বা গ্রিক সভ্যতার মত বিলীন হয়ে যায়নি ।এখনো অম্লান রয়েছে ।মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পূজার্চনা আমাদের নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অফুরন্ত শক্তিকে চিনিয়ে দিতে সাহায্য করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার ।তিনি বলেন আজকের দিনটি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ।এলাকাবাসীর বহুদিনের চাহিদা আজ পূরণ হল । মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা খরচ করে এই মন্দিরটি পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। মন্দিরের কোন অংশই ভাঙচুর করা হয়নি।এই মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা এবং সৌন্দর্য রক্ষার জন্য এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।