Saturday, August 30, 2025
বাড়িখবররাজ্যবিদ্যুৎ চালিত রেল চলাচলের ফলে মসৃণ ও দ্রুত ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে:...

বিদ্যুৎ চালিত রেল চলাচলের ফলে মসৃণ ও দ্রুত ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে: বিদ্যুৎ মন্ত্রী

আগরতলা রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণে আজ নতুন ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনস এবং ১৩২ কেভি ফিডার বেস এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ। এ প্রকল্পে ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড ৫৮ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে। উদ্দেশ্য ত্রিপুরার রেল পরিষেবা ডিজেলের পরিবর্তে বিদ্যুতায়ণে নিয়ে আসা। আজ এ প্রকল্পে বিদ্যুতের মাধ্যমে রেল চলাচলের জন্য পি কে বাড়ি (কুমারঘাট) থেকে কুমারঘাট রেলওয়ে টিসিএস, বনদুয়ার (উদয়পুর) থেকে উদয়পুর রেলওয়ে টিসিএস এবং গামাইটিলা (তেলিয়ামুড়া) থেকে তেলিয়ামুড়া রেলওয়ে টিসিএস পর্যন্ত যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ২৭১ কিমি লাইন চালু করা হয়েছে। আজ বৈদ্যুতিন বোতাম টিপে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ। তিনি বলেন, আজ ত্রিপুরার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দিন। ত্রিপুরা ভারতের রেল মানচিত্রে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। বিদ্যুৎ চালিত রেল চলাচলের ফলে মসৃণ ও দ্রুত ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে। ভ্রমণের সময় হ্রাস পাবে। পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা চালু হবে। এরফলে কাচামালের আমদানী রপ্তানী দ্রুত হবে। বাণিজ্য, পর্যটন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা হবে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৪ সালে ধর্মনগরে রেল আসে। ধর্মনগর থেকে আগরতলায় রেল আসে ৪৪ বছর পর। সাব্রুম পর্যন্ত রেল আসে ২০১৯ সালে। তিনি বলেন, আমাদের রাজ্যে ব্রডগেজ লাইনের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আগরতলা পর্যন্ত ডাবল লাইন সার্ভের কাজ শেষ হয়েছে। আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত এই সার্ভের কাজ বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে ৬৯,৫০০ কিমি ব্রডগেজ লাইন আছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত দেশে ৬৮,৬০০ কিমিতে বিদ্যুতায়ণ করা হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তরিক প্রচেষ্টার ফল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। এলক্ষ্যে আগরতলা, উদয়পুর, কুমারঘাট ও ধর্মনগরে অমৃত ভারত স্টেশন গড়া হবে। আগামীদিনে রাজ্যে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের চিন্তাভাবনা রয়েছে। রাজ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে ত্রিপুরায় ১৩২ কেভি সাব স্টেশন ছিল ১২টি। এখন রয়েছে ২০টি। ১৩২ কেভি লাইন ছিল ১৮৫ কিমি। এখন রয়েছে ৯৮৪ কিমি। ৩৫টি সাব স্টেশন ছিল। এখন রয়েছে ৭০টি। ৩৩ কেভি লাইন ছিল ৮৯৬ কিমি। এখন রয়েছে ১৪৩৬ কিমি। ১১ কেভি লাইন ছিল ১৫,৭৪৮ কিমি। এখন রয়েছে ১৯,৯৭২ কিমি। এলটি লাইন ছিল ২২,৮৮৮ কিমি। এখন রয়েছে ৩৪, ১৩৫ কিমি। আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবল ছিল ৯৫ কিমি। এখন হয়েছে ৪০৮৭ কিমি। পুরো আগরতলা শহরে আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবল যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে খুমুলুঙ ও ধর্মনগরে এই কাজ করা হবে। তিনি বলেন, আগে রাজ্যে ১৯৯ কিমি জাতীয় সড়ক ছিল। এখন রয়েছে ২৯২৩ কিমি। বর্তমানে আমাদের রাজ্যে ১০ লক্ষ ৩৮ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৩৮৫ মেগাওয়াট। তবে ভবিষ্যতের চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর মুফত বিজলী যোজনার সুযোগ আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা বিধানসভার সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায়, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, বিদ্যুৎ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ বসু প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ নিগমের জেনারেল ম্যানেজার (ট্রান্সমিশন) রঞ্জন দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক মিনারাণী সরকার, আইআরজিও লিমিটেডের জিএম দেবেন্দ্র সোহায়া, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র ইন কাউন্সিল হরিসাধন দেবনাথ, সমাজসেবী মনিষ দেব, সমাজসেবী অসীম ভট্টাচার্য প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডিভিশনাল ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার প্রকাশ চন্দ্র মিনা।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

one + three =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য